শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন




জ্বালানি সংকটে টেলিকম সেবা হুমকিতে, সহায়তা চায় মোবাইল অপারেটররা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:১৬ pm
mobile tower Cell site cellular tower antenna network মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশন বিকিরণ নেটওয়ার্ক অপারেটর
file pic

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবে টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টেলিকম অবকাঠামোর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পুরো ডিজিটাল অর্থনীতিতে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে টেলিকম নেটওয়ার্ক পরিচালনায় জ্বালানির ঘাটতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মোবাইল অপারেটররা আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করেছিল। যদিও সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সহায়তার নির্দেশনা দিয়েছে, তবে বাস্তব পর্যায়ে সেই নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয় বলে জানিয়েছে এমটব।

এদিকে সাম্প্রতিক ঝড়ের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগছে, যা টেলিকম নেটওয়ার্ক সচল রাখাকে কঠিন করে তুলছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বর্ষা মৌসুমে এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে মোবাইল অপারেটররা একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গঠনের দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রস্তাবনায় রয়েছে—বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) সাইটসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনাগুলোর জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য আলাদা জ্বালানি বরাদ্দ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে লোডশেডিং কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের টেলিকম অবকাঠামোতে বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার টাওয়ার, একাধিক ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশের প্রায় পুরো ভৌগোলিক এলাকায় সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মানুষকে টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের সময় টেলিকম নেটওয়ার্ক মূলত ডিজেল ও পেট্রোলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এই বিকল্প ব্যবস্থাও কার্যকর রাখা সম্ভব হয় না, ফলে নেটওয়ার্কে বিঘ্ন দেখা দেয়।

টেলিযোগাযোগ খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে অপারেটররা বলছে, এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—বরং জননিরাপত্তা, সরকারি সেবা, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভিত্তি।

তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ ব্যাহত হলে এর প্রভাব পড়বে পুরো ডিজিটাল অর্থনীতির ওপর। বিশেষ করে ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন বাণিজ্য, করপোরেট কার্যক্রম এবং অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

এ অবস্থায় দেশের জনগণের জন্য টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে মোবাইল অপারেটররা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD