শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন




খামেনিকে বিদায় জানাতে তেহরানে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের স্লোগান

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬ ৫:১২ pm
Ali Hosseini Khamenei president of Iran from 1981 to 1989 সৈয়দ আলী হোসেইনী খামেনেয়ী سید علی حسینی خامنه‌ای‎‎ ইরানি সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন আলি খামেনি Sayyid Ebrahim Raisolsadati Ebrahim Raisi President of Iran ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ইরান Iran Tehran ইরান তেহরান ইরান বাংলাদেশ Iran Tehran ইরান তেহরান Iran Tehran ইরান তেহরান Bangladesh Iran সায়্যিদ ইব্রাহিম রাইসুল সাদাতি سید ابراهیم رئیس‌الساداتی‎‎ খামেনি
file pic

ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শোক ও শেষশ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হয়েছেন ইরানিরা। এ সময় পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন এবং ইরানের পতাকা ও অন্যান্য ব্যানার নাড়াচ্ছেন। এ সময় ‘প্রতিশোধ’ এবং ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ স্লোগান দেন ইরানিরা। এ সময় প্রতিশোধের আহ্বানের প্রতীক লাল ব্যানার হাতে নিয়ে থাকতেও দেখা যায় শোকাহত মানুষদের।

এর আগে শুক্রবার তেহরানে প্রথমবারের মতো খামেনির মরদেহ থাকা কফিন প্রকাশ্যে আনা হয়। এ সময় খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানান বিদেশি নেতারা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার কফিন প্রদর্শন হলেও মেহের বলছে, খামেনির শেষ যাত্রার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো শনিবার থেকেই।

মূলত শনিবার ও রোববার তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের প্রয়াত সদস্যের প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।

ইরানের কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তারা আশা করছে। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই বহু মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। শনিবার সকাল নাগাদ তা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ভোর ৬টা থেকে জনসাধারণের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের মূল ফটক খুলে দেয়া হয়েছে।

বলা হচ্ছে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পূর্বসুরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে। খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় এক কোটি মানুষ।

আগামী সোমবার অর্থাৎ ৬ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণে কোম নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। চলবে মঙ্গলবারও (৭ জুলাই)। বুধবার (৮ জুলাই) ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ পৌঁছাবে। সেখান থেকে নাজাফের কারবালা শহরে জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা হবে। সেখানেও শোকাহত মানুষ তার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।

সবশেষে খামেনির মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে দাফন সম্পন্ন হবে খামেনির।

তেহরানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুক্রবার আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল, সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেইজির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ, ভারতের বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিসহ ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD