বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন




বর্ষা মৌসুমে আর পাবলিক পরীক্ষা হবে না

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩৪ am
EXAM EXAMS SSC EXAMINATIONS ssc এসএসসি ssc class room school college বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ class room school college ক্লাশ রুম স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসএসসি class student পরীক্ষা এইচএসসি পরীক্ষার্থী student ফল ফলাফল file pic class room school college বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ class room school college ক্লাশ রুম স্কুল কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসএসসি class student পরীক্ষা এইচএসসি পরীক্ষার্থী student ফল ফলাফল file pic
file pic

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী বছর থেকে বর্ষাকালে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক তাঁর কার্যালয়ে বলেন, বর্ষাকালে আমরা আর পরীক্ষা নেব না। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। আগামী বছর জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষা মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে, ধাপে ধাপে পাবলিক পরীক্ষাগুলো স্বাভাবিক শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে ফিরিয়ে আনা।
সচিব বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রশাসন– সব পক্ষই নানা সমস্যায় পড়ছে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পরীক্ষার ক্যালেন্ডার পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

গতকাল জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও পরীক্ষার নতুন সময়সূচির পরিকল্পনার কথা জানান। কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাবর্ষ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুনে আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় কমবে এবং শিক্ষা ক্যালেন্ডার স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে।
করোনা মহামারির পর দেশের পাবলিক পরীক্ষার সূচি স্বাভাবিক ধারার বাইরে চলে যায়। ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে অটো পাস দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে, ২০২২ সালে নভেম্বরে এবং ২০২৩ সালে আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে জুনে পরীক্ষা শুরু হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা শেষ করা যায়নি। ২০২৫ সালে জুনের শেষ দিকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি বছর পরীক্ষা আরও এগিয়ে জুনের শুরুতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবির মুখে তা পিছিয়ে ২ জুলাই শুরু করা হয়। ফলে ভরা বর্ষায় পরীক্ষা আয়োজনের বাস্তবতা তৈরি হয়।

দুটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতে কখনোই বর্ষাকালে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এবার অনেকটা বাধ্য হয়েই এ সময় পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এত বড় জাতীয় পরীক্ষার সময় নির্ধারণে আবহাওয়া ও দুর্যোগের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, কোমরপানি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান পরীক্ষার পরিবেশও নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

মজিবুর রহমান বলেন, তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষাগুলো অনুকূল আবহাওয়ার সময়ে নিয়ে আসা এবং দুর্যোগকালীন শিক্ষা ব্যবস্থাপনার একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, প্রায় ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষার সূচি পরিবর্তন করা বেশ জটিল। এবার সারাদেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হচ্ছে। কোনো এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরে নিতে হলে ভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে, যা বড় ধরনের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষা প্রশাসন মূলত ৭ জুন থেকে পরীক্ষা শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা প্রায় এক মাস পিছিয়ে ২ জুলাই থেকে শুরু করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের কারণেই পরীক্ষা বর্ষার মধ্যভাগে চলে এসেছে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD