আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ডেড ইস্যু। এটা নিয়ে হাঁকডাক কেউ পছন্দ করে না। রংপুরে আমাদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে, তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি। সরকারের পরিবর্তন চাইলে নির্বাচন করুন। জনগণ চাইলে আছি, না চাইলে নেই। তবে বিএনপির আন্দোলন অশ্বডিম্বের মতো। ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি ঘোড়ার ডিম পেড়েছে, সামনে একই হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর সড়ক ভবনের মিলনায়তনে সড়ক ও জনপথ প্রকৌশল সমিতির ৩০তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির হাঁকডাকে ঘোড়াও হাসে। আমরা হাঁকডাক, হুমকি-ধামকি ভয় করি না। শেখ হাসিনাও ভয় পান না। শেখ হাসিনা আল্লাহপাক ছাড়া কাউকে ভয় পান না।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল, যে দল ঘরে যেমন গণতন্ত্রের চর্চা করে, রাজনৈতিক মাঠেও একই। বিরোধীদল শক্তিশালী হলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। তবে বিরোধিতার নামে জ্বালাও-পোড়াও কোনো গণতন্ত্র নয়। তবে বিরোধীদলের শান্তিপূ্র্ণ আন্দোলনকে সাধুবাদ জানাই।
সবাইকে সততার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভালো কাজ করতে হবে। যে অপকর্ম করবে, মানসম্মত কাজ করবে না, তার ব্যর্থতাতার ভার মৃত্যুর পর তাকে বহন করতে হবে। খারাপ কাজের ব্যর্থতা ছেলে-মেয়েদের বহন করতে হবে। সৎ থাকার চেষ্টা করতে হবে, একটা মানুষের জন্য কত টাকা দরকার? আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করার সময় এসেছে। প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর নয়। কিছু মানুষ টাকা ছাড়া কিছু বোঝে না। তাদের আরও টাকা দরকার। কেউ কেউ কষ্টের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের আমরা ঘৃণা করি। দেশ উন্নত করতে দুর্নীতি ও টাকা পাচার বন্ধ করতে হবে।
বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে স্বাগত জানায় সরকার: ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপির হাঁকডাক অশ্বডিম্বের মতো। ১১ জানুয়ারি বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে স্বাগত জানায় সরকার। তবে আন্দোলনের নামে সহিংস আচরণ করলে জনগণের জানমাল রক্ষায় সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৪ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়নে অর্জনে বদলে গেছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে স্মার্ট সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর রাষ্ট্রকে ভাবায়। নানা অজুহাতে বিদেশ যায়। কেউ কেউ কষ্টার্জিত টাকা বিদেশে পাচার করে। এদের আমরা ঘৃণা করি।’
সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির সভাপতি সৈয়দ মঈনুল হাসানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইসহাক ও সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী অমিত কুমার চক্রবর্তী প্রমুখ।