পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, দ্য ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড ও ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেন সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে দেখা গেছে। তবে এ বৃদ্ধির পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে পৃথকভাবে ডিএসইর মাধ্যমে জানিয়েছে কোম্পানি তিনটি।
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
ডিএসইতে গত ১৫ জুনের পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৮৭ টাকা ৪০ পয়সা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে এ দর দাঁড়িয়েছে ২৪৪ টাকায়। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা বা ৩০ দশমিক ২০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। এদিন মোট ১০ লাখ ৮৪ হাজার ১৯৪টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের আকার ২ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩১ কোটি ১০ লাখ টাকায়। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ তহবিলের আকার ২ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। আর সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল বেড়েছে ৭৬ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা বেড়েছিল ৯৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
দ্য ঢাকা ডায়িং
ডিএসইতে গত ২১ জুনের পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে এ দর দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ২০ পয়সায়। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩ টাকা বা ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ের মধ্যে গত সোমবার কোম্পানিটির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে। এদিন মোট ৫৬ লাখ ৭১ হাজার ২১৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩০৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যেখানে ইপিএস ছিল ৭৯ পয়সা। আর সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যেখানে ইপিএস হয়েছিল ৬ পয়সা। সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।
ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ
গত ১১ জুনের পর থেকে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এদিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৯৬ টাকা ৩০ পয়সা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে শেয়ারটির সমাপনী দর দাঁড়িয়েছে ১২৯ টাকা ৭০ পয়সায়। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ৩৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ সময়ের মধ্যে গত মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির। এদিন কোম্পানিটির ২ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির ৫১ হাজার ৩২০টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
কোম্পানিটি সর্বশেষ তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ২০১০ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে। এরপর গত ১১ বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো প্রকার লভ্যাংশ (নগদ কিংবা স্টক) দেয়নি। এদিকে কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৯-২০ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পরে আর কোনো আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি।