পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, মতিন স্পিনিং এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)।
কোম্পানি তিনটির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ডেসকো লোকসান করেও লভ্যাংশ দিয়েছে। আর বাকি দুই প্রতিষ্ঠান বড় মুনাফায় রয়েছে।
লভ্যাংশ ঘোষণার পাশাপাশি কোম্পানি তিনটির পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য বিনিয়োগকারী নির্ধারণে রেকর্ড ডেট এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন
কোম্পানিটি ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৫০ পয়সা করে পাবেন বিনিয়োগকারীরা। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ১৬ টাকা ১৫ পয়সা। অর্থাৎ মুনাফার খুবই সামান্য অংশ প্রতিষ্ঠানটি লভ্যাংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপরও এটি এযাবতকালের মধ্যে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা।
এর আগে ২০২২ সালে ২০ শতাংশ, ২০২১ সালে ১২ শতাংশ, ২০২০ সালে ১০ শতাংশ, ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। অর্থাৎ ২০১৮ সালের পর থেকে কোম্পানিটির লভ্যাংশের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
১৯৭৭ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৫২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪০টি। এর মধ্যে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সরকারের কাছে আছে ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ। এছাড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ শেয়ার আছে।
এদিকে লভ্যাংশের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের নেওয়া সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আর লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য বিনিয়োগকারী নির্ধারণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ নভেম্বর।
মতিন স্পিনিং
কোম্পানিটি ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। সমাপ্ত হিসাবে বছরে কোম্পানি শেয়ারপ্রতি মুনাফা করেছে ৪ টাকা ৩৮ পয়সা। অর্থাৎ মুনাফার প্রায় পুরোটা কোম্পানিটি লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করে দেবে।
এরপরও আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির লভ্যাংশের পরিমাণ কমেছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। তার আগে ২০২১ সালে ৪০ শতাংশ, ২০২০ সালে ১৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ১৫ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় এ কোম্পনিটি।
২০১৪ সালে শেয়ারবাজার তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে আছে ৩২ দশমিক ৭২ শতাংশ। বাকি শেয়ারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৬ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪০ দশমিক ৮৭ শতাংশ আছে।
২০২৩ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের লভ্যাংশের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের নেওয়া সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আর লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য বিনিয়োগকারী নির্ধারণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ নভেম্বর।
ডেসকো
কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে। সমাপ্ত হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছে ১৩ টাকা ৬১ পয়সা। এর আগে ২০২২, ২০২১ ও ২০২০ সালেও কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। তবে, ওই বছরগুলোতে কোম্পানিটি মুনাফায় ছিল। এমনকি সদস্য সমাপ্ত বছরটির আগে রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন এ প্রতিষ্ঠানটি লোকসান করেনি।
২০০৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আর শেয়ার সংখ্যা ৩৯ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৪টি। এর মধ্যে ৬৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ শেয়ার আছে সরকারের কাছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার আছে।
সদস্য সমাপ্ত বছরের লভ্যাংশের বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের নেওয়া সিদ্ধান্ত শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভার তারিখ কোম্পানিটি এখনো ঘোষণা করেনি। তবে, লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য বিনিয়োগকারী নির্ধারণে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ নভেম্বর।