মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন




গভীর সংকটে ভূমি মন্ত্রণালয়

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০২৪ ১১:৩২ am
ভূমি মন্ত্রণালয় Ministry of Land
file pic

সার্ভেয়ার, ড্রাফটসম্যান ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা থেকে কানুনগো পদে পদোন্নতি দিতে গিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) পাঠনো পদোন্নতি প্রস্তাবে সংস্থাটি মন্ত্রণালয়ের প্রায় হাফ ডজন ভুল ধরেছে।

এতে বলা হয়, নিয়োগ বিধিমালায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত তুলে ধরে বেশ কয়েকজনকে পদোন্নতি দেওয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের (এসিআর) ত্রুটি এসিআর নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ তুলে ধরবে। সে ধরনের কোনো প্রশাসনিক বক্তব্য ছাড়া এক হাজারের বেশি ব্যক্তিকে পদোন্নতির প্রস্তাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন সার্ভেয়ারের নিয়োগে নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। আবার পদোন্নতিযোগ্য পদ না হওয়া সত্ত্বেও বেশ কয়েকজনকে সার্ভেয়ার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া একজনের এসিআর নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে এসিআরদাতার মতামত ও ব্যাখ্যায় তা সঠিক হিসাবে গ্রহণ করা হলেও আরেকজনের ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ আবেদন দুটির প্রকৃতি এক ও অভিন্ন। এছাড়া পদোন্নতি নিয়ে আদালতে কোনো মামলা আছে কি না এবং কোনো মামলায় নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ দেওয়া আছে কি না, তা পদোন্নতি প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়নি। এসব অসংগতির কারণে পদোন্নতির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে পিএসসি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিএসসি থেকে বলা হয়েছে সার্ভেয়ার থেকে কানুনগো পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২১-এ শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত উল্লেখ নেই। ১৩ জন সার্ভেয়ারের শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল), বিএ পাশ এবং বিএসএস পাশ হওয়ায় তাদের পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়নি। পিএসসি জানতে চেয়েছে, ওই ১৩ জনকে কোন নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা যখন কারও জন্যই প্রযোজ্য নয়, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে কেন। এ বিষয়ে

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্মসচিব মমতাজ বেগম বলেন, ১৯৮৪ সালে প্রণীত ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালায় সার্ভেয়ার পদে নিয়োগের শর্ত ছিল ডিপ্লোমা ইন সার্ভে থাকতে হবে। আবার ২০২১ সালের নিয়োগ বিধিমালায়ও সার্ভেয়ার পদে পদোন্নতির জন্য একই শর্ত রাখা হয়েছে। নিয়োগ বিধিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কারা তাদের নিয়োগ দিয়েছে, তা আমার অজানা। যার নিয়োগই বৈধ না, তার তো চাকরিই থাকার কথা না। তার আবার পদোন্নতি কীসের?

কিছু কর্মচারীকে ট্রেসার ও চেইনম্যান থেকে সার্ভেয়ার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করলেও তাদের পদোন্নতির প্রস্তাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন তাদের বাদ দেওয়া হলো, সে বিষয় পরিষ্কার করে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাঠানো হয়নি। সেক্ষেত্রে পিএসসি জানতে চেয়েছে তারা পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও কেন তাদের বাদ দেওয়া হলো তা পরিষ্কার করতে। এ বিষয়ে মমতাজ বেগম বলেন, সার্ভেয়ার পদটি পদোন্নতিযোগ্য পদ নয়। এটি সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদ। নিয়োগ বিধিমালার শর্ত ভঙ্গ করে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তারা তো পদোন্নতি পাবে না।

পিএসসি জানতে চেয়েছে, সার্ভিস বুক ও এসিআর না থাকা, আংশিক এসিআর, এসিআরে প্রতিস্বাক্ষর না থাকা এবং প্রতিস্বাক্ষরের তারিখ উল্লেখ না থাকায় পিএসসিতে পাঠানো পদোন্নতির প্রস্তাবে জ্যেষ্ঠতার তালিকা থেকে ১০১৩ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠতার বিধিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার তালিকায় এসিআরে প্রতিফলন হওয়ার কথা নয়। জ্যেষ্ঠতার ক্ষেত্রে সার্ভিসে যোগদান, বয়স মানে জন্মতারিখ ইত্যাদি বিবেচনায় নেওয়ার কথা। গোপনীয় অনুবেদন সংক্রান্ত অনুশাসন অনুযায়ী এসিআর সংরক্ষণের দায়িত্ব ডোসিয়ার সংরক্ষণকারী কর্তৃপক্ষের। এসিআর সংক্রান্ত সমস্যা বা ত্রুটি থাকলে ডোসিয়ার সংরক্ষণকারী কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু পদোন্নতির প্রস্তাবে সে ধরনের কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। কেন পাওয়া যায়নি, বিষয়টি খোলাসা করতে বলেছে সংস্থাটি।

কানুনগো পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পদ পূরণ সংক্রান্ত আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা, স্থগিতাদেশ আছে কি না, সে বিষয়ে পিএসসিকে কিছুই জানানো হয়নি। অথচ পিএসসি মামলার তালিকা পর্যালোচনা করে দেখেছে কানুনগো পদে পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলা উচ্চ আদালতে চলমান। এসব মামলায় কোনো স্থগিতাদেশ বা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রত্যয়ন থাকা প্রয়োজন। মামলা চলমান মানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন। আর বিচারাধীন কোনো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে গেলে তা আদালতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

এছাড়া পিএসসি মনে করছে, জ্যেষ্ঠতার তালিকা, মামলা, এসিআরসহ সব বিষয়ে অসংগতি রেখে পদোন্নতি দেওয়া হলে ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।

এ বিষয়ে মমতাজ বেগম বলেন, আমার জানামতে উচ্চ আদালতে একটি এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা চলমান। তবে কোনো মামলায় নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।

পিএসসির পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, পদোন্নতির শর্তাদি পূরণ করার পরও প্রস্তাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে-এ সংক্রান্ত ৪টি আবেদন জমা পড়েছে। এ চারটি আবেদনের মধ্যে একটিতে উল্লেখ করেছেন, তার এসিআরে নানা ধরনের অনিয়ম-অসংগতি ছিল। তিনি তার এসিআরদাতা তথা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে খুলনার জেলা প্রশাসকের মতামত ও ব্যাখ্যা নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে তা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ একই বিষয়ে অপর একজন পদোন্নতিপ্রত্যাশীর ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের ডিসির মতামত ও ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়েছে। একই বিষয়ে দুজন ডিসির মতামত ও ব্যাখ্যায় দুই ধরনের সিদ্ধান্তের কারণ কী, বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

উল্লিখিত পর্যবেক্ষণের আলোকে প্রচলিত নীতিমালা, গোপনীয় অনুশাসনমালা, নিয়োগ, জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধি প্রতিপালন করে পুনঃপ্রস্তাব প্রেরণের জন্য প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানো হলো। এ বিষয়ে মমতাজ বেগম বলেন, আমরা আবেদন দুটির ওপর শুনানি করেছি। প্রমাণাদি থাকায় একটি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরটি গ্রহণ করা হয়নি।

সরকারি কর্ম কমিশনের চিঠিতে আরও বলা হয়, সমন্বিত জ্যেষ্ঠতার তালিকাটি নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা-২০২১-এর বিধি ৪(২) অনুসরণ করে প্রণয়ন করা হয়নি। সেক্ষেত্রে সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা তালিকা এবং পদোন্নতি প্রস্তাব পৃথকভাবে তৈরির পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। গ্রেডেশনের তালিকায় ওপরে অবস্থানের পরও কোনো কর্মচারীর পদোন্নতি প্রস্তাব পাঠানো সম্ভব না হলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রস্তাবের নির্ধারিত কলামে উল্লেখ করতে হবে। কানুনগো পদের ফিডার পদধারীদের সমন্বিত জ্যেষ্ঠতা তালিকা পিএসসির নির্ধারিত ফরমে প্রস্তুত করতে মতামত দিয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে মমতাজ বেগম বলেন, আমরা পিএসসির সব প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত করছি। আশা করি, এবার আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট থাকবে না।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD