‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যাকাত’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে আগামী শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী যাকাত মেলা।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘যাকাত ফেয়ার ২০২৫’ আয়োজনের ঘোষণা দেন মেলা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।
সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলাটি উন্মুক্ত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলশান তেজগাঁও লিংক রোডে অবস্থিত আলোকি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) উদ্যোগে ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি (শনি ও রোববার) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ যাকাত মেলা।
সংবাদ সম্মেলনে মেলা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মজিদ বলেন, “আমরা মনে করি জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্রমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা রূপায়নে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সঠিকভাবে যাকাত দিলে শুধু অভাবীদের সহায়তা করা নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা হয়, যাতে তারা ভবিষ্যতে দাতা হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “যাকাত হচ্ছে একটি আন্দোলন, যা দিয়ে দেশ থেকে পুরোপুরি দারিদ্র দূরীকরণ সম্ভব, আর এটি করতে গেলে দরকার সিজেডএম-এর মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক যাকাত ব্যবস্থাপনার এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এর স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে সিজেডএম।”
আবদুল মজিদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্য মুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যাকাত দান নয়, এটি ধনীদের সম্পদে দরিদ্রের অধিকার। যাকাত একটি সামাজিক আন্দোলন, বৈষম্য দূর করে একটি মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠন করতে সাহায্য করে। এই আয়োজনে, আমরা সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি-“সমৃদ্ধ আগামীর জন্য সচেতনভাবে যাকাত দিন – দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখুন।
এবারের যাকাত ফেয়ারে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে রহিমআফরোজ, খাদিম সিরামিকস, কোহিনুর কেমিক্যাল, রহিম ষ্টিল, সাউথ ব্রিজ, হজ্ব ফাইনান্স কোম্পানি, আইডিএলসি ইসলামিক, এসএমসিসহ দেশের সনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফেয়ারে বিভিন্ন আর্থিক ও যাকাত প্রতিষ্ঠানের স্টলসহ যাকাত কনসালটেশন ডেস্ক ও বিভিন্ন ইসলামিক বইয়ের স্টল থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিষদের কনভেনার এবং রহিমআফরোজ গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক জনাব মুনওয়ার মিসবাহ মঈন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া ও সিজেডএম-এর হেড অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল অব: মুহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন। যাকাত ফেয়ার সকাল ০৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬.০০টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আমরা মনে করি, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র মুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে তা রূপায়নে যাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সঠিকভাবে যাকাত প্রদান মানে শুধু অভাবীদের সহায়তা করা নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যতে দাতা হতে পারে এবং আর্থ সামাজিক জীবনে যে বৈষম্য তৈরী হয়ে আছে তা নিরসনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে এক লক্ষ কোটি টাকার যাকাত হয়। UNDP-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে ১ কোটি ৮৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
দেশে প্রায় ১৩% মানুষ ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যান। কিন্তু কল্পনা করুন, যদি এক লক্ষ কোটি টাকা যাকাত সঠিকভাবে প্রদত্ত ও ব্যবহৃত হতো, তাহলে বাংলাদেশে কেউ অভুক্ত থাকতো না। ১ লক্ষ কোটি টাকা যদি ১ কোটি ৮৭ লাখ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন মানুষদের মাঝে বন্টন করা হয় তাহলে জনপ্রতি ৫৩,৪৭৫ টাকা করে পড়ে যা একটি মানুষের সারা বছরব্যাপী খাদ্য যোগানের জন্য যথেষ্ট। বাংলাদেশে সিজেডএম এর মতো প্রাতিষ্ঠানিক যাকাত ব্যবস্থাপনায় ১০০০ কোটি টাকার যাকাত বিতরণ করলে ৫৩ লক্ষ মানুষের মৌলিক চাহিদা – খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব। যাকাত হচ্ছে একটি আন্দোলন, যা দিয়ে দেশ থেকে পুরোপুরি দারিদ্র দূরীকরণ সম্ভব, আর এটি করতে গেলে দরকার সিজেডএম এর মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক যাকাত ব্যবস্থাপনার এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছে সিজেডএম।
এবারের যাকাত ফেয়ার চলাকালীন মোট সাতটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। “Role of Islamic Social Finance in Economic Empowerment and Human Development” শীর্ষক উদ্বোধনী সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায়। এতে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দাতুক ড. মোহাম্মদ গাজালি নুর, সেক্রেটারি জেনারেল, ওয়ার্ল্ড যাকাত এন্ড ওয়াকফ ফোরাম, এবং লে. জে. (অব:) এম নুরুদ্দীন খান, সাবেক মন্ত্রী, সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, সিজেডএম। উদ্বোধনী সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বেলা ২.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে মহিলাদের জন্য ‘নারী জীবনে যাকাত, সাদাকাহ ও ওয়াকফ অনুশীলনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক সেমিনার ও প্রশ্নত্তোর বিশেষ অনুষ্ঠান এবং একই সময় অন্য হলে অনুষ্ঠিত হবে ‘যাকাত ক্যালকুলেশন ওয়ার্কশপ’।
ফেয়ারের দ্বিতীয় দিন সকাল ১০:০০ টায় ইমামদের জন্য ‘যাকাত ব্যবস্থাপনায় ইমামদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনাওে প্রধান অতিথি থাকবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন। পাশাপাশি অন্য হলে অনুষ্ঠিত হবে ÔChallenges and Opportunities for Revival of Waqf in BangladeshÕ শীর্ষক আরেকটি সেমিনার। বেলা ২.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে তরুণ প্রজন্মের জন্য ÔCareer Planning and Potential of EntrepreneurshipÕবিষয়ক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
সালেহ উদ্দিন আহমেদ, মাননীয় উপদেষ্টা, অর্থ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন, মাননীয় উপদেষ্টা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ড. ইমরানুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, ম্যাক্রোইকোনমিক্স, দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, যুক্তরাজ্য, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, প্রধান, অর্থনীতি বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, প্রফেসর ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সদস্য, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, অধ্যাপক ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, ভাইস চ্যান্সেলর, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি সহ সমাজের আরও অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ যাকাত ফেয়ারে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা যায়।