ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেতে যাচ্ছে বিজেপি। টানা ১৫ বছর ধরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের অধীনে থাকা রাজ্যটি নতুন মুখ্যমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বলে আসছিলেন পশ্চিমবঙ্গ নতুন একজন বাঙ্গালি মুখ্যমন্ত্রী পাবে।
রাজ্যটিতে এবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এটি ছিল মমতার জন্য প্রথম বড় ধাক্কা। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দিগ্রামে মমতাকে হারান শুভেন্দু।
সেইবার বিজিপে মাত্র ৭৭টি আসন পায়। তবে তখন থেকে মমতার কড়া সমালোচনা শুরু করেন শুভেন্দু। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে হারের পর সবাই ভেবেছিল বিজেপি আর টিকবে না কিন্তু শুভেন্দু রাজ্যটিতে দলের হাল ধরেন।
তিনি বিভিন্ন জেলাজুড়ে কর্মীদের উৎসাহ দেন এবং পুরো রাজ্যে বিজেপির প্রধান মুখ হয়ে উঠেন। তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার তালিকায় তিনি উপরেই থাকবেন।
আরএসএস-এর একজন পুরোনো কর্মী এবং অটল বিহারী বাজপেয়ী ধাঁচের মধ্যপন্থী মুখ হিসেবে পরিচিত সমিক ভট্টাচার্য সেই সময় থেকেই রাজ্য বিজেপিতে আছেন, যখন দলটি রাজ্য রাজনীতিতে একটি প্রান্তিক শক্তি ছিল।
তিনি প্রথম রাজ্যটিতে বিজেপির এমএলএ হিসেবে নির্বাচন হন। তাই বিজেপি যদি রাজ্যটি একজন ভদ্রলোক মুখ্যমন্ত্রী খুঁজেন তাহলে সমিকের নাম আসার সম্ভাবনা বেশি।
২০২১ সালের আগেই রাজ্যে বিজেপিতে যোগ দেন সাবেক সাংবাদিক স্বপন দাসগুপ্ত। রাজ্যটিতে বিজেপির আরেক ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত মুখ তিনি। তাই স্বপনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার তালিকায় থাকতে পারেন।
বিজেপির সাবেক প্রেসিডেন্ট যিনি ২০১৬ সাল থেকে দলটি রাজ্যটিতে গড়তে এবং তার ডালপালা ছড়াতে সাহায্য করেছেন তিনি দিলীপ ঘোষ। তিনি তিনবারের এমএলএ ছিলেন সেই সঙ্গে তিনি দলের জনপ্রিয় একজন নেতা। দিলীপ ঘোষকেও তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর তালিকা থেকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার তালিকায় থাকা আরেকজন হচ্ছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি এখন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিজেপি যদি চায় উত্তরবঙ্গ থেকে নতুন মুখ- তাহলে সুকান্ত মজুমদারকেও বেছে নিতে পারেন।