সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ন




যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী মর্যাদায় থাকা অভিবাসীদের সামনে নতুন বিপদ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬ ৮:২৩ pm
White House official residence workplace president United States Pennsylvania Avenue Washington হোয়াইট হাউস সাদা বাড়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক বাসভবন ওয়াশিংটন ডিসি পেনসিলভানিয়া ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা North America United States United State usa
file pic

যুক্তরাষ্ট্রে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস)-এর আওতায় বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করতে হবে, অন্যথায় নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। রোববার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। খবর রয়টার্সের।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে হাজার হাজার হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকের টিপিএস সুবিধা বাতিলের অনুমতি দেয়ার পরই মুলিনের এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে এলো। টিপিএসের আওতায় সংঘাত, দুর্যোগ বা চরম সংকটে থাকা দেশের নাগরিকদের সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ দেয়া হয়।

মুলিন বলেছেন, হয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে স্থায়ী বৈধ মর্যাদা পাওয়ার চেষ্টা করুন, নয়তো আমরা আপনাকে নিজ দেশে ফিরতে সহায়তা করব। তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাকে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিট দেব। পাশাপাশি সেখানে নতুন করে জীবন শুরু করতে প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলারও দেয়া হবে। তবে আদালতের রায় এবং কর্মসূচির নাম থেকেই স্পষ্ট- টিপিএস কোনো স্থায়ী মর্যাদা নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের অস্থায়ীভাবে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়ার সুযোগ রয়েছে। অতীতে এই সুরক্ষা সুবিধার মেয়াদ বারবার নবায়ন করা হয়েছিল। তবে এসব সুরক্ষা বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো হাইতি ও সিরিয়ায় ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি রেখেছে। কারণ হিসেবে সেখানে ব্যাপক সহিংসতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং অপহরণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের এবং ২০১২ সালে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা দেয়।

এদিকে ব্যাপকহারে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন রিপাবলিকান দলের কিছু নেতা। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মাইক ডিওয়াইন সিএনএনকে বলেন, বর্তমানে হাইতির পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিশ্রমী হাইতিয়ান কর্মীদের সরিয়ে দিলে ওহাইওর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনবল সংকট আরও বাড়বে।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ডনাল্ড ট্রাম্প ওহাইওতে বসবাসরত হাইতিয়ান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন যে তারা অন্যের পোষা প্রাণী খেয়ে ফেলছে।
তবে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায় দেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ বর্ণবৈষম্যমূলক- এমন অভিযোগে হাইতিয়ানদের করা মামলায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইতিয়ান অভিবাসীদের উপস্থিতি ওহাইওর শিল্প-অবক্ষয়ের শিকার কয়েকটি অঞ্চলের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করেছে। এতে কর্মসংস্থান ও মজুরি- উভয়ই বেড়েছে।

ডিওয়াইন বলেন, অনেক হাইতিয়ান আপনার আলঝেইমারে আক্রান্ত মা-বাবার সেবা করছেন, আবার কেউ নার্সিং হোমে থাকা স্বজনদের দেখাশোনা করছেন। তাদের সবাইকে সরিয়ে দেয়া আমাদের নিজেদের স্বার্থেরও পরিপন্থী।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD