বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যে সংস্কারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এমন একটি পর্যালোচনা থেকে সংস্থার কাজের ধরন ও পরিচালনব্যবস্থার সম্ভাব্য উন্নয়নের সুপারিশ পাওয়া যেতে পারে। এমনই খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
ফিফা কাউন্সিলের সদস্য এবং ২১১টি সদস্যসংস্থার সভাপতিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে ইনফান্তিনো বলেছেন, বড় কৌশলগত উদ্যোগের ক্ষেত্রে ফিফার বর্তমান পরিচালন কাঠামো নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার বিষয়ে কাউন্সিলের মতামত নেয়া হবে। পাশাপাশি কনফেডারেশন, সদস্যসংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কাঠামোবদ্ধ আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। আগামী ১৫ অক্টোবরের কাউন্সিল সভায় এ বিষয়ে পাওয়া প্রস্তাবগুলো আলোচনায় আসতে পারে।
পর্যালোচনায় ফিফা সভাপতি, ব্যুরো, কাউন্সিল ও কংগ্রেসের ভূমিকা এবং বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটির আওতায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকারে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির কথা ছিল। তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার বিরোধিতার মুখে জুলাইয়ে তা প্রত্যাহার করা হয়।
চিঠিতে এ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ইনফান্তিনো। তিনি লিখেছেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আপনাদের উদ্দেশে লেখার আগে আমি সময় নিয়ে সবার কথা শুনেছি।’
এফএফই পরিকল্পনা নিয়ে তার দাবি, এতে ফুটবলসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ফিফার নিয়ন্ত্রণ বা ক্রীড়াসংক্রান্ত কর্তৃত্ব হস্তান্তরের কোনো বিষয় ছিল না। তার ভাষ্য, প্রস্তাবটি ফিফার নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই প্রকাশ্যে চলে আসে। ফলে পুরো প্রেক্ষাপট সামনে না থাকায় এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে সিদ্ধান্ত বুঝি আগেই নিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে বাস্তবে তা হয়নি বলে জানান তিনি।
ফিফার পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, স্বাধীনতা ও ক্রীড়াসংক্রান্ত কর্তৃত্ব কখনো বিক্রির জন্য ছিল না। এখনো নয়, ভবিষ্যতেও হবে না।’
এফএফই প্রস্তাব প্রত্যাহার হলেও ফুটবলে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য থেকে সরে আসছেন না ইনফান্তিনো। ফিফার সম্পদ টেকসইভাবে বাড়ানোর মাধ্যমে সদস্যসংস্থাগুলোর উন্নয়ন ও কার্যক্রমে আরও বেশি অর্থ দেয়ার পথ খোঁজা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।