আওয়ামী লীগকে পথ দেখিয়েছে বিএনপি। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে বিএনপি এমন ভূমিকা রেখেছে। বিএনপি বিপ্লব কিংবা গণঅভ্যুত্থানে জনগণের অংশগ্রহণে সৃষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সুবিধা নেয়। কিন্তু সুবিধা নেওয়ার পর আবার আওয়ামী লীগ হতে চায়। বিএনপি একটি ‘ফেইলড আওয়ামী লীগ’, আর আওয়ামী লীগ একটি ‘সাকসেসফুল আওয়ামী লীগ’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উপলক্ষে শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু বৈশিষ্ট্য বা চরিত্র রয়েছে। আপনি যে দলই করেন, পেছনে যে দলের ব্যানারই লাগান না কেন, নিজের মধ্যে যদি ‘হাসিনাপনা’ থাকে, তাহলে দিনশেষে আপনি আওয়ামী লীগই হয়ে যাবেন। হয়তো আপনার জার্সি বিএনপির, কিন্তু আপনার মধ্যে আওয়ামী লীগের চরিত্র রয়ে গেছে। একইভাবে এনসিপির জার্সি গায়েও কেউ আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে পারেন।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভূমিকার তুলনা করে হাসনাত বলেন, আওয়ামী লীগ যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে, বিএনপিও সেগুলো করতে চেয়েছে; কিন্তু বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে, আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করার ক্ষেত্রেও বিএনপি চেষ্টা করেছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সেই কাজে সফল হয়েছে। বিএনপির নিয়ত বা নাফসানিয়াতের জায়গায় তিনি কোনো ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন।
তবে দেশের সামগ্রিক প্রয়োজনে আরেকটি রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি এড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। হাসনাত বলেন, একটা জাতি আর কতবার রক্ত দেবে? এত অল্প সময়ের মধ্যে একটি জাতি কতবার রক্তক্ষয় সহ্য করতে পারে? আমরা মাঝেমধ্যে বলি, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’। কিন্তু একটি জাতি কতবার রক্ত দেবে? প্রত্যেকটি প্রজন্ম কি রক্ত দেবে?
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, এই প্রজন্মও রক্ত দিয়েছে। তাহলে কি প্রত্যেকটি প্রজন্মকে এভাবেই রক্ত দিতে হবে? একটি প্রজন্ম শেষ হবে, আরেকটি প্রজন্ম আসবে; সেই প্রজন্ম আবার রক্ত দেবে, ঐতিহাসিক সংকট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাবে, নিজের পরিচয় ও অবস্থান খুঁজবে। এভাবে পরিচয় খুঁজতে খুঁজতেই একটি প্রজন্ম শেষ হয়ে যাবে। এরপর নতুন প্রজন্ম এসে আবার পরিচয়সংকটে পড়বে।
অতীতের প্রজন্মকে দায়ী করার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, আমরা এখনো অতীতের প্রজন্মকে প্রশ্ন করি, তাদের দায় দিই। কিন্তু এই দায় দেওয়ার সময়ও আর সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ বছর থাকবে। এরপর যারা ভবিষ্যতে আসবে, তারা আমাদের দায়ী করতে শুরু করবে।