সব ধরনের কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বর মাসে গ্রাহকরা এটিএম থেকে বেশি টাকা তুলছেন, ক্রেডিট কার্ডেও ভালো খরচ করছেন। ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিনে (সিআরএম) রেকর্ড টাকা লেনদেন হচ্ছে। পয়েন্ট অব সেলসের (পিওএস) মাধ্যমেও মানুষ আগের চেয়ে বেশি কেনাকাটা করছেন। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে ই-কমার্স লেনদেন কিছুটা কমে গেছে।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখনো দেশের বড় অংশের মানুষের ব্যক্তিগত লেনদেন নগদ টাকায় সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি কার্ডের মাধ্যমেও প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়, যা আর্থিক খাতের মোট লেনদেনের তুলনায় হয়তো সামান্যই। তবে অব্যাহতভাবে কার্ডে লেনদেন বাড়ছে। বিশেষ করে শহরের মানুষের মধ্যে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়ছে।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, বর্তমানে মানুষের মধ্যে কার্ডে লেনদেনের প্রবণতা অনেক বেশি হারে বেড়েছে। আর্থিক লেনদেনে এটিএম, পিওএস, সিআরএমসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন ধরনের কার্ডে লেনদেন বেড়েছে। তবে গ্রামের অধিকাংশ মানুষসহ শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ এখনো নগদ টাকায় লেনদেন করে থাকে। তাই এ শ্রেণির মানুষকেও ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলা কিউআর কোড চালু করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সমাজের প্রান্তিক মানুষদেরও ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে দেশে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৬টি। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংক খাতে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৯টি। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ লাখ ৬৩ হাজার ২৭৭টি। একইভাবে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১ লাখ ১৫ হাজার ৮৬১টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২টি। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ড বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ। একই সময়ে প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫১টি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সর্বশেষ গত ডিসেম্বর মাসে ডেবিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৩৬ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এর আগে কখনো ডেবিট কার্ডে এক মাসে এত লেনদেন হয়নি। এর আগে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ডেবিট কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ২৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১২ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গত ডিসেম্বরে লেনদেন হয় ২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। যদিও গত জুলাই মাসে ক্রেডিট কার্ডে দুই হাজার ৫৭৮ কোটি টাকার সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল। আলোচ্য সময়ে প্রিপেইড কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৩১২ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ডিসেম্বর শেষে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন কমেছে। এ সময় কার্ড দিয়ে এটিএম থেকে ২৯ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়, যা আগের মাসের তুলনায় ১৭৫ কোটি টাকা কম। একইভাবে পিওএসের মাধ্যমে ডিসেম্বরে দুই হাজার ৬১৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়। পিওএস সাধারণত কেনাকাটা, বিমানের টিকিট ক্রয়, হোটেলের ভাড়া দেওয়ার সময় ব্যবহার করা হয়। আলোচ্য সময়ে আবার বাড়ছে ই-কমার্সের লেনদেন। ২০২১ সালের জুনে ই-কমার্সের মাধ্যমে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল। এরপর এই খাতে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় ই-কমার্সের মাধ্যমে লেনদেন অনেক কমে যায়। তবে এখন আবার তা বাড়ছে। গত ডিসেম্বরে ই কমার্সে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮২৪ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ই-কমার্সে লেনদেন বেড়েছে ৩০৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুন মাসে ই-কমার্সে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল। এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা।