গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শুক্রবার ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ইন সাপোর্ট অব ভিক্টিমস অব টর্চার-২০২৬’ উপলক্ষে ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে বিশেষ ভাতা চালুর বিষয়টি চলতি বাজেটেই অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। সকল লড়াই-সংগ্রামে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এখন কান্নার সময় নয়, এখন সময় অধিকার আদায়ের, এখন সময় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার।
তিনি মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি গুম-সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
এ সময় বিগত শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা সংলাপে অংশ নেন। তারা ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার আরমান বলেছেন, আমি বুকে হাত দিয়ে গর্বের সঙ্গে বলি, আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি গুম ফেরত একজন ভিক্টিম। যতদিন আল্লাহ আমাকে হায়াত দিয়েছেন এবং কথা বলার সুযোগ রেখেছেন, আমি এই পরিচয় দিয়ে যাব এবং ভুক্তভোগী হিসেবে গল্প বলে যাব। যেন আমাদের পরবর্তী কোনো প্রজন্মকে এই নির্মম ভাগ্যের মুখোমুখি হতে না হয়।
শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে গুমের শিকার স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের আয়োজনে ইন্টারন্যাশনাল ডে ইন সাপোর্ট অব ভিক্টিমস অব টর্চারস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, এই বাংলার মাটিতে আমরা আর কোনো দিন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর ফিরে আসতে দেবো না। আমরা বলতে চাই, জান দিবো কিন্তু জুলাই দিবো না।
ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম বলেন, আমরা এই কষ্ট বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি। এখন সময় এসেছে দৃশ্যমান কিছু করার। যারা প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন, আসমান-জমিনের কোনো ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু তারা যেন অর্থনৈতিকভাবে অন্যের মুখাপেক্ষী না হন, সেই দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।
ফ্যাসিবাদের নির্মমতার ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাঠশালা হিসেবে ‘জুলাই জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই জাদুঘর পরবর্তী প্রজন্মকে ফ্যাসিবাদের রূপ কেমন হয় তা শুরুর আগেই চিনতে শেখাবে। যদি কখনও দেশে আবারও এমন কালো অধ্যায়ের সূচনা হতে চায়, তবে তরুণ প্রজন্ম তা শুরুতেই রুখে দিতে পারবে।
মীর আহমদ বিন কাশেম বলেন, ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ভিক্টিম পরিবার চরম অর্থকষ্টে দিনাতিপাত করছেন, যাদের ঢাকায় এসে কথা বলার সামর্থ্যটুকুও নেই। অবিলম্বে তাদের টার্গেট করে এককালীন বা মাসিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই।