মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন




সার নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার, কমিটি গঠন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫৬ pm
Aman সারের দাম Boro paddy farmers fertiliser Ministry of Land জমি জরিপ ভূমি মন্ত্রণালয় Urea ইউরিয়া সার Urea Fertilizer ইউরিয়া ফার্টিলাইজার সার Urea Fertilizer ইউরিয়া ফার্টিলাইজার সার Farmer
file pic

কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে কৃষকদের দুর্ভোগে ফেললে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও সার ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য মন্ত্রীদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটি সারের চলমান জটিলতা ও বিতরণ ব্যবস্থার সমস্যা নিরসনে কাজ করবে।

একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যেসব ডিলার ইউনিটশূন্য রয়েছে, সেগুলোতে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও এ বিষয়ে কাজ করবেন।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে প্রায় দেড় ঘণ্টা সারের ডিলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয় দেশের সার পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এরপর স্থানীয় সরকার, সমাজকল্যাণ, পানি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১০ জনের বেশি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে মতামত দেন।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গত বছরের চেয়ে বেশি সার রয়েছে। অনেক জায়গায় সরকারি গুদামে সার রাখার জায়গা নেই। সারের কোনো সংকট নেই।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও সার নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের তদারকি করতে হবে।

বৈঠকে মন্ত্রীদের মতামতের পর প্রধানমন্ত্রী পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে রয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং কৃষি সচিব মো. সেলিম খান। কমিটিকে চলমান সংকটের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি কৃষকদের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ও সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। কমিটি এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর কৃষি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কৃষকের ভর্তুকির সার নিয়ে কারসাজি
দেশে কোথাও সার সংকট নেই, বরং অন্য বছরের চেয়ে মজুত বেশি– কৃষি মন্ত্রণালয় এমন দাবি করলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। সরকারি দামে সার না পেয়ে কৃষকদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কোথাও ডিলারের গুদামে সার থাকলেও কৃষক পাচ্ছেন না। আবার কোথাও সার না পেয়ে কৃষক গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে মাঠপর্যায়ে সারের এই সংকটের পেছনে পুরোনো ডিলার, সাব-ডিলার, খুচরা বিক্রেতা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয়তার তথ্য মিলেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নতুন ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা কার্যকর ঘিরে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে সার উত্তোলন বন্ধ রাখার পাশাপাশি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য, নতুন নীতিমালা বাতিল বা শিথিল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

পুরোনো চক্রের বলয় ভাঙেনি
সার ব্যবসার পুরোনো কাঠামো ভেঙে সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে গত ৯ আগস্ট ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা, ২০২৫ (সংশোধিত)’-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) আলাদা ডিলার কাঠামো একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থার বদলে বিক্রয় প্রতিনিধি রাখার বিধান করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সর্বোচ্চ তিনজন ডিলার রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক ডিলারকে নির্ধারিত এলাকায় নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সার বিক্রি করতে হবে। মূল ব্যবসা কেন্দ্রের পাশাপাশি ডিলার আরও দুটি বিক্রয়কেন্দ্র রাখতে পারবেন। এসব কেন্দ্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের সুযোগ থাকবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পুরোনো ব্যবস্থায় ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার একাধিক স্তর থাকায় সার সরবরাহের শেষ প্রান্তে গিয়ে সেটি কার হাতে যাচ্ছে, কত দামে বিক্রি হচ্ছে এবং কোথায় মজুত হচ্ছে, তা অনুসরণ করা কঠিন ছিল। নতুন ব্যবস্থায় ডিলারকে সরবরাহের জন্য সরাসরি দায়বদ্ধ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। আর এই পরিবর্তনেই আপত্তি পুরোনো ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশের। তাদের দাবি, পুরোনো ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বহাল রাখতে হবে এবং বিএডিসি ও বিসিআইসির ডিলার কাঠামো আলাদা রাখতে হবে। নতুন নীতিমালার বিরোধিতায় ১৭ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।

সংগঠনের সভাপতি মো. ফোরকান বলেন, দেশের প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতার দাবি, গ্রাম পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের বাকিতে সার দেন এবং ফসল ওঠার পর টাকা নেন। নতুন ব্যবস্থায় তারা ব্যবসা হারালে এসব পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এ নীতিমালা বাতিলের দাবিতে কয়েকবার সংবাদ সম্মেলন করেছে। এই অ্যাসোসিয়েশনের পেছনে রয়েছে পোটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটনের সহযোগীসহ একটি চক্র, যিনি দীর্ঘদিন বিএফএর সভাপতি ছিলেন। পোটন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমদানির ৭২ হাজার টন রাসায়নিক সার বন্দর থেকে খালাসের পর গুদামে পৌঁছে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ১৬ মে পোটনকে কারাগারে পাঠান আদালত। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বোরো মৌসুমের অজুহাত তুলে বিএফএ নেতারা নীতিমালা ধীরে বাস্তবায়নের দাবি করেছিলেন। অথচ এখন তারা সেই নীতিমালা বাতিলের দাবি তুলছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৯ সালের পর সার ব্যবসা লাভজনক হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ডিলার নিয়োগের পরিধি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে একজন ব্যক্তি নিজের পাশাপাশি স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোনের নামেও ডিলারশিপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেন। এতে একটি পরিবার বা গোষ্ঠীর হাতে বিপুল পরিমাণ সার তোলার সুযোগ তৈরি হয়। বর্তমানে বিএডিসি ও বিসিআইসির সার ডিলার রয়েছেন ৭ হাজার ১৫০ জন। এর মধ্যে বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার ৫ হাজার ২২ জন এবং বিসিআইসির ২ হাজার ১১৮ জন।

ঝিনাইদহে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিসিআইসির ডিলার ছিলেন ১৩ জন। বর্তমানে সেখানে ডিলারের সংখ্যা ৬৭। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন আওয়ামী লীগের সাবেক দুই সংসদ সদস্যসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এদের কয়েকজন বিভিন্ন মামলায় পলাতক থাকলেও তাদের ডিলারশিপের বিপরীতে সার উত্তোলন ও কেনাবেচা চলছে।

হবিগঞ্জের মাধবপুরেও আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় নেতাকর্মী ও তাদের ঘনিষ্ঠদের ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামেও ডিলারশিপ রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা আছে।

ঢাকার নবাবগঞ্জে অনুসন্ধানে একই ব্যক্তির হাতে একাধিক ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণের তথ্য মিলেছে। নয়নশ্রী ইউনিয়নের তাশুল্লা বাংলা বাজারে মেসার্স আশা এন্টারপ্রাইজের মালিক মানোয়ার হোসেনের দোকানে চাল-ডাল-তেল-লবণ, ডিজেল ও পেট্রোলের পাশাপাশি সার বিক্রি করতে দেখা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, মানোয়ার হোসেন নিজ নামে একটি ডিলারশিপের পাশাপাশি তাঁর ভাই রফিকুল ইসলামের নামে থাকা মেসার্স নাবিলা এন্টারপ্রাইজ এবং প্রদীপ চন্দ্র সরকারের নামে থাকা মেসার্স বৈশাখী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ডিলারশিপের সার একই দোকান থেকে বিক্রি করেন। মানোয়ার হোসেন বলেন, আমি একাই তিনটি সারের ডিলারশিপ চালাই। এতে কারও কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

সার তোলা বন্ধ রেখে সংকটের প্রচারণা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন নীতিমালা ঠেকাতে একটি অংশ সার তুলছেই না। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মধ্যে পঞ্চগড় ছাড়া অন্যান্য জেলার ডিলারদের একটি বড় অংশ সার সংগ্রহ করেনি। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৫ জেলার ডিলারের অনেকেই জুলাইয়ে সার তোলেননি। আগস্টেও তাদের কেউ কেউ সার সংগ্রহ করেননি।

দেশের মাঠপর্যায়ে সার বিতরণ ব্যবস্থা তদারকের জন্য কমিটি করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুজন যুগ্ম সচিব, দুজন উপসচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা রয়েছেন কমিটিতে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে রাজশাহী, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ায় অধিদপ্তরের উপপরিচালকদের স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়; প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দ পেয়েও যেসব ডিলার সার সংগ্রহ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে চিঠিতে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা সার তুলছেন না, তাদের একটি অংশই আবার এলাকায় সার সংকটের প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে নতুন নীতিমালা বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, সার সংকট নেই। কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। মাঠপর্যায়ে তদারক চলছে। দায়িত্বে গাফিলতির কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

গুদামে সার, কৃষকের হাতে নেই
চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়ার তিন ধরনের সার সরকারি ডিলার পয়েন্ট থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ একই সার খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক মাহফুজুল হক বলেন, ডিলার ২৫ টাকা কেজির সার সাব-ডিলারের কাছে ২৭ টাকায় বিক্রি করছেন। এরপর হাতবদলের প্রতিটি ধাপে দাম বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কৃষককে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

যশোরেও অভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। চৌগাছার সলুয়া বাজারে সরকার অনুমোদিত বিক্রেতার কাছে সার না থাকলেও কয়েকটি অনুমোদনহীন দোকানে সরকারি ভর্তুকির সার প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বস্তাপ্রতি সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যশোরে সরকারি বিক্রয় ব্যবস্থা এড়িয়ে একশ্রেণির ডিলার রাতের আঁধারে অনুমোদনহীন ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করছেন। পরে ওই সারই বেশি দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি হচ্ছে।
যশোরের চাঁন্দুটিয়া বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, কিছু ডিলার বেশি মুনাফার আশায় অনুমোদনহীন দোকানে সার বিক্রি করছেন। এতে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা বিক্রেতারা কৃষকের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ও তিলাই ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের নামে ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমের জন্য ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া তুলে গুদামে রাখা হয়। কৃষকরা বারবার গুদামে গিয়েও সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন। পরে গত রোববার সকালে এক দল কৃষক গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

এদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিস চত্বর থেকেও কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েবের খবর পাওয়া গেছে। গত রোববার সার বিতরণের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চার ধরনের সারের মোট বিতরণ ৭ দশমিক ২৯ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের জন্য নতুন করে ৪ দশমিক ৪৩ লাখ টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ২ দশমিক ২৬৩ লাখ, টিএসপি শূন্য দশমিক ৪৮ লাখ এবং এমওপি শূন্য দশমিক ৬৮৭ লাখ টন। ডিএপির জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, ডিলারকেন্দ্রিক নতুন ব্যবস্থা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সার বিতরণে জবাবদিহি বাড়তে পারে। তবে ডিলারদের ওপর কঠোর নজরদারি না থাকলে সংকটের সময় তারাই বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেতে পারেন। ডিজিটাল হিসাব, বরাদ্দ, মজুত ও বিক্রির তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বছরে ২৮ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত সারে ভর্তুকি দেয়। তবে এ ভর্তুকির সুফল কৃষক কতটা পাচ্ছেন, তা নিশ্চিতভাবে জানার কার্যকর ব্যবস্থা নেই। নতুন নীতিমালায় সার বিতরণে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গুদাম থেকে কৃষকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত নজরদারির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিলারদের একটি শক্তিশালী অংশ এর বিরোধিতা করছে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার সরকারের হাতে বেশি সার রয়েছে। সার নিয়ে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নতুন নীতিমালার কারণে যারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন, তাদের কেউ কেউ সমস্যা করছেন। তবে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এ নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ নেই। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD