সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম প্রধান শহর দুবাইয়ে আজ শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী গালফ ফুড ফেয়ার। এতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশসহ ১২০টি দেশের পাঁচ হাজারের বেশি খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান। এবারের ২৭তম মেলায় বাংলাদেশের ৩৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য নিয়ে বড় আকারে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান প্রাণ।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, আগ্রহী ক্রেতাদের অনেকেই প্রাণের স্টল পরিদর্শন করছেন এবং তাঁদের কাছে বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করছেন প্রাণের কর্মকর্তারা। কোনো কোনো ক্রেতা তাৎক্ষণিক কার্যাদেশও দিচ্ছেন প্রাণের পণ্যের জন্য।
আল হায়াত কোম্পানি ফিলিস্তিন ও পাকিস্তানে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের বড় পরিবেশক। এর মালিক সৈয়দ জারার প্রাণের বিস্কুট, ললিপপ, চকলেটসহ কয়েকটি পণ্য কেনার আদেশ দিয়েছেন মেলার প্রথম দিনেই। প্রাণের প্রায় এক লাখ ডলারের পণ্য কেনার আদেশ চূড়ান্ত করেছেন তিনি মেলাতেই।
সৈয়দ জারার বলেন, অনলাইনে দেখে প্রাণের পণ্য কেনার ব্যাপারে তিনি প্রথমে আগ্রহী হন। ‘এরপর খাদ্যপণ্য দেখে ও এগুলোর স্বাদ নেওয়ার পর আমি নিয়মিতভাবে প্রাণের পণ্য কেনায় আগ্রহী হয়েছি। মানের বিষয়টি ছাড়া প্রাণের পণ্যের মোড়কও বেশ আকর্ষণীয়।’
পৃথিবীজুড়ে যেসব প্রতিষ্ঠান খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বাজারজাত এবং রপ্তানি করে, তারা গালফ ফুড ফেয়ারকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। এখানে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পরিবেশক প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন নতুন পণ্য সম্পর্কে জানতে হাজির হয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে যেমন এই মেলায় বড় পরিবেশকদের দেখা পায়, তেমনই কোন দেশে কোন ধরনের পণ্যের সম্ভাবনা ও চাহিদা বেশি রয়েছে, এ সম্পর্কে জানতে পারে।
মেলায় বড় বড় কোম্পানি অংশ নেওয়ায় তাদের পণ্য সম্পর্কে এবং ভোক্তার আচরণে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, এ সম্পর্কেও ধারণা পায় এসব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সিলার কামরুল হাসান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশের অনেকগুলো কোম্পানি গালফ ফুড ফেয়ারে অংশ নিয়েছে। এই মেলায় বড় পরিবেশকদের কাছে পণ্য তুলে ধরছে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো, আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত নানা ধরনের খাদ্য সম্পর্কেও তারা ধারণা নিতে পারছে।
প্রাণ গ্রুপ ২০১৩ সাল থেকে গালফ ফুড ফেয়ারে নিয়মিতভাবে অংশ নিচ্ছে। এবারে প্রাণ গ্রুপের স্টলে প্রায় ৫০০ পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জুস, বেভারেজ, বিস্কুট, অন্যান্য বেকারি পণ্য, স্ন্যাকস, কনফেকশনারি, স্পাইস, কালিনারি পণ্য, ফোজেন ফুডস ইত্যাদি।
চলতি বছরের মেলায় বাসিল (তোকমা দানা) ড্রিংকস, ড্রিংকো ফ্লট পানীয়, লিচি ড্রিংক, ম্যাংগো জুস, বিভিন্ন ধরনের স্পাইস, ক্রিম বিস্কুট, ওয়েফার, চকলেট, ললিপপ, নুডলস ও ফ্রোজেন ফুডসের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রদর্শন করছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এই খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি।
প্রাণ এবারের মেলায় আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রাণের লক্ষ্য, ২০২৩ সালে রপ্তানি আয় ৪০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা। গত বছর তাদের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩৩ কোটি ডলার।
গালফ ফেয়ারে উপস্থিত হয়ে নিজের কোম্পানির খাদ্যপণ্য তুলে ধরছেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ১৪৫টি দেশে আমাদের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। আমরা শিগগিরই মোট ২০০ দেশে আমাদের পণ্য পৌঁছে দিতে চাই। আরও দেশে পণ্য পৌঁছে দিতে এই মেলা একটা বড় মাধ্যম হবে বলে আমরা মনে করি।’
আহসান খান চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো আমরা অন্যান্য দেশেও আমাদের পণ্যের চাহিদা তৈরি করতে চাই। মধ্যপ্রাচ্যে প্রাণের পণ্যের বড় ধরনের চাহিদা থাকায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে কারখানা স্থাপনের ইচ্ছাও আমাদের আছে।’