মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন




কাঁচা পাট রপ্তানিতে বাধা ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৩ ৮:৩৩ pm
Barrister Sameer Sattar ব্যারিস্টার সামির সাত্তার Dhaka Chamber dcci Dhaka Chamber of Commerce & Industry DCCI ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ডিসিসিআই DCCI
file pic

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটির ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় উদ্যোক্তারা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন, যা নিরসনে ভারত সরকারের সহযোগিতার মনোভাব থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট প্রক্রিয়া আরও সহজীকরণ করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ‌‘ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনার প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানসহ বিভিন্ন বক্তাদের বক্তব্যে এসব কথা উঠে আসে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও ভারতীয় হাইকমিশন যৌথভাবে ওই সেমিনার আয়োজন করে।

সেমিনারে উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটির ফলে আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তারা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন, যা নিরসনে ভারত সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে।

মসিউর রহমান বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য স্থানীয় মুদ্রায় করা যেতে পারে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ কাজে লাগিয়ে এ দেশে একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে। দুই দেশের রেল যোগাযোগ উন্নয়নে যমুনা রেল সেতু স্থাপনসহ বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন পরিলক্ষিত হবে।

সেমিনারে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গত এক দশকে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রস্তাবিত ‘সেপা’ চুক্তির বাস্তাবায়ন হলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থায় আরও অগ্রগতি পরিলক্ষিত হবে।

হাইকমিশনার বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় হ্রাসকল্পে আধুনিক সড়ক, রেল ও নদী পথের যোগাযোগ এবং অবকাঠামো খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ৭টি ‘ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন’ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলছে, যা সম্পন্ন হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সহজতর হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ৭টি স্থানে ‘বর্ডার-হাট’ পরিচালনার মাধ্যম স্থানীয় উদ্যোক্তারা সহজেই পণ্য রপ্তানিতে সক্ষম হয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে বর্ডার হাট কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, ২০২২ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং শুল্ক বহির্ভূত যোগাযোগ অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় আয় যথাক্রমে ১৭ ও ৮ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের রয়েছে পৃথিবীর ৫ম বৃহত্তম সীমান্ত। সীমান্ত এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

সেমিনারে মুক্ত আলোচনায় সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান, ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান, আসিফ ইব্রাহীম, মো. সবুর খান, শামস মাহমুদ, এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি আনিস উদ-দৌলা, ঢাকা চেম্বারের পরিচালক মালিক তালহা ইসমাইল বারী, খায়রুল মজিদ মাহমুদ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

তারা বলেন, প্রস্তাবিত ‘কম্প্রিহেনসিভ প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (সেপা)’ চুক্তির বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কাঁচা পাট রপ্তানির উপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার সহ দুদেশের শুল্ক ও প্যারা-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতার নিরসন হবে, যা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD