নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। বর্তমানে কাজ খুব বেছে বেছে করছেন। পাশাপাশি ব্যস্ত রয়েছেন নিজের রেস্টুরেন্ট ‘চাপওয়ালা’ নিয়ে। তারপরও সানীর ভাবনায় যেন কেবলই চলচ্চিত্র। বর্তমানে সিনেমার দুর্দিন চলছে। এর কারণ কি বলে মনে করেন?
এ অভিনেতা বলেন, বাণিজ্যিক সামাজিক সিনেমা এখন তেমন তৈরি হচ্ছে না। অতীতে যেসব গুণী পরিচালক সিনেমা নির্মাণ করতেন তাদের বেশির ভাগই আমাদের মাঝে নেই। আবার অনেকে সিনেমা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় মন দিয়েছেন। আগে দর্শক পোস্টারে পরিচালকের নাম দেখেই সিনেমা দেখতে যেতেন।
এখনকার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ক’জনইবা পরিচালকের নির্দেশ মানেন! বরঞ্চ তথাকথিত শিল্পীরা তাদের অর্ডার পরিচালকদের ওপর অ্যাপ্লাই করে, যা সত্যি দুঃখজনক।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে চিত্রনায়িকা মৌসুমী নিজের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ওমর সানী বলেন, মৌসুমী এখনই চলচ্চিত্রকে বিদায় জানাচ্ছে না। মৃত্যুর পর দর্শকদের সে অনুরোধ করেছেন কিছু বিষয়ে। জীবনে আমাদের সবারই অনেক ভুলভ্রান্তি হয়।
মৌসুমীর এই কথা বলাটা কি অন্যায়! আমরা সবাই তো একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবো। রয়ে যাবে আমাদের ভালো কর্ম। আমরা দু’জনই চেষ্টা করি ধর্মীয় অনুশাসনের ভিতরে থাকতে। আমিও সবার কাছে দোয়া চাই যেন মৃত্যুর আগে একবার হলেও বড় হজ করতে পারি।
সালমান শাহ-মৌসুমী কিংবা ওমর সানী-মৌসুমী জুটি যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এখন সেরকম জুটি গড়ে ওঠে না কেন? সানী হেসে বলেন, এখন এমন কোনো জুটি নেই যাদের ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখা যায়। বেশির ভাগই এখন ভাইরাল তারকা, যাদের কোনো নিজস্ব আলো নেই। বর্তমানে যারা কাজ করছেন তাদের কেমন দেখছেন? এ নায়ক বলেন, শিল্পী হওয়া অনেক সাধনার বিষয়। শুধু অর্থ উপার্জনই যখন একজন শিল্পীর মগজে ঢুকে যায়। তার থেকে শিল্প চর্চার আশা করা যায় না।
সম্প্রতি অভিনেত্রী সুচরিতা ও নায়ক রুবেলের শিল্পী সমিতির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে ওমর সানী বলেন, একজন সুচরিতা ম্যাডাম বা একজন রুবেলের মতো শিল্পীর বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে শিল্পী সমিতির ১০০ বার ভাবা উচিত ছিল। গতবারের শিল্পী সমিতির নেতারাও এ ধরনের হটকারিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।