সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন




রডে কর বৃদ্ধি ও গেইন ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি রিহ্যাবের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ ১:৩৬ pm
Real Estate and Housing Association of Bangladesh REHAB রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন এসোসিয়েশন অব অফ বাংলাদেশ রিহ্যাব rehab
file pic

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জমি, ফ্ল্যাট ও ভবন ক্রয়-বিক্রয়ে বিনাপ্রশ্নে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। তবে নির্মাণসামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ এবং জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর নতুন গেইন ট্যাক্স আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ উপলক্ষে রিহ্যাবের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল এই দাবি জানান।

ড. আলী আফজাল বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূলধারায় ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ ইতিবাচক। এর ফলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আবাসন খাত কঠিন সময় পার করছে। উচ্চ সুদহার, দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের সীমাবদ্ধতা, বিক্রয় সংকট, ব্যাংকঋণের চাপ, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা খাতটিকে চাপে ফেলেছে।

রিহ্যাবের দাবি, দেশের আবাসন খাতের সঙ্গে প্রায় ২৬৯টি শিল্পখাত সম্পৃক্ত এবং নির্মাণখাত জিডিপিতে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ অবদান রাখছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

সংগঠনটি জানায়, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে ১৩ শতাংশের বেশি ব্যয় হওয়ায় ক্রয়-বিক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এ ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিলেও তা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী ‘সেকেন্ডারি মার্কেট’ সৃষ্টির বিষয়টিও বাজেটে স্থান পায়নি।

ড. আলী আফজাল বলেন, জমির মালিকদের দেওয়া সাইনিং মানির ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ কর রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে যে ফ্ল্যাট পাবেন, তার মূল্যেও ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স দিতে হবে। এতে আবাসন খাতে নতুন সংকট তৈরি হবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২৪টি ফ্ল্যাটের একটি প্রকল্পে জমির মালিক যদি ১২টি ফ্ল্যাট পান এবং সেগুলোর মূল্য ১২ কোটি টাকা হয়, তাহলে তাকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত এ অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ওপরই পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর বৃদ্ধিরও সমালোচনা করা হয়। রিহ্যাবের মতে, রড, পিভিসি রেজিন, পেট রেজিন, কোল্ড-রোল্ড কয়েল, কপার তার ও কপার টিউবসহ বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, যা নির্মাণ ব্যয় আরও বৃদ্ধি করবে এবং ফ্ল্যাটের দাম বাড়িয়ে দেবে।

রিহ্যাব সরকারের কাছে নতুন আরোপিত কর প্রত্যাহার, নিবন্ধন ব্যয় কমানো এবং সহজ শর্তে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে গৃহঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানায়।

সংগঠনটির মতে, আবাসন খাতকে গতিশীল করা মানেই অর্থনীতিকে গতিশীল করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা। তাই জাতীয় বাজেট পাসের আগে আবাসন খাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে রিহ্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম রিজিয়ন) মোহাম্মদ মুরশিদুল হাসানসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD