কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং দেশীয় কৃষি উপকরণ শিল্পকে উৎসাহিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সার ও কীটনাশকের ওপর বিভিন্ন ধরনের কর ও ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কৃষিকাজে ব্যবহার্য সব সারের ব্যবসায়ী পর্যায়ে বর্তমানে প্রযোজ্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিতে ব্যবহৃত সব ধরনের কীটনাশকের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর (এটি) সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কীটনাশক ও উদ্ভিদ সুরক্ষাসামগ্রীর দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে তালিকাভুক্ত ৩৬টি কাঁচামালের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট কমিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব কাঁচামাল ভ্যাট থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পাবে।
এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে জিঙ্ক সালফেট সার উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে এ সার উৎপাদনের কাঁচামাল ‘জিঙ্ক অ্যাশ’-এর ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের আশা, এসব কর ও ভ্যাট ছাড় কার্যকর হলে কৃষি উপকরণের উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় কমবে, কৃষকের জন্য সার ও কীটনাশক সহজলভ্য হবে এবং দেশীয় কৃষি উপকরণ শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তি
কৃষিবিদরা বলেন, “কীটনাশক আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম কর মওকুফের প্রস্তাব কৃষি উৎপাদন খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত কীটনাশক সংগ্রহ করতে পারবেন, যা ফসলের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। এর ফলে ফলন বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। তবে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। তাই কর ছাড়ের পাশাপাশি কৃষকদের সমন্বিত কীট ব্যবস্থাপনা শেখানো অত্যন্ত প্রয়োজন।”