বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন




শাহজালাল বিমানবন্দর

তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৩ pm
থার্ড টার্মিনালের থার্ড টার্মিনাল terminal এয়ারপোর্ট HSIA CAAB hazrat shahjalal international airport dhaka biman হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর HSIA CAAB Terminal বিমানবন্দর-3rd terminal Biman probasi jatri বিমান যাত্রী প্রবাসী বিমান বন্দর Biman inner বিমান উরোজাহাজ ফ্লাইট বিমান বন্দর এয়ারপোর্ট probasi-saudi-remitance-প্রবাসী-রেমিটেন্স-Mediterranean Sea Atlantic Ocean লিবিয়া ত্রিপোলি ভূমধ্যসাগর উপকূল ভূমধ্য সাগর আটক অভিবাসী সাগর উদ্ধার কোস্টগার্ড airport-terminal
file pic

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় যুক্ত হতে চায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ একজন কর্মকর্তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ঢাকায় একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সিকিউরিপোর্ট নামে প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করে। ওই সময় একটি ধারণাপত্রও উপস্থাপন করে তারা। বর্তমান সরকার আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে চায়। এখনও টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি। তবে জাপানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সোমবার বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে থার্ড (তৃতীয়) টার্মিনাল চালু করার ব্যাপারে আমাদের চেষ্টা রয়েছে।’

সিকিউরিপোর্টের আগ্রহের ব্যাপারে মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, ‘বিষয়টির ব্যাপারে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে হয়তো জানাতে পারব।’

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সিকিউরিপোর্টের শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যান্ডরিক সিকিউরার এ সপ্তাহে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

সিকিউরিপোর্ট মূলত সফটওয়্যারসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। সিকিউরিপোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত সিকিউরিপোর্টের সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও সেবা প্রদান করে তারা।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়, তাদের লক্ষ্য হলো স্মার্ট সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশকে সক্ষম করে তোলা। অবৈধ অভিবাসন, মানব পাচার, মাদক পাচার এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতেও তারা কাজ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিকিউরিপোর্ট আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সীমান্ত ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করে। বাংলাদেশে তারা মূলত তৃতীয় টার্মিনালের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের তথ্য সংরক্ষণসহ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

প্রায় ২৫ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকার তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটির ৯০ ভাগ কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেষ হয়। তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়। এর বেশির ভাগ অর্থায়ন করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। সংস্থাটি সহজ শর্তে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বাকি অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এসেছে।

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটি অর্থায়নে থাকায় জাপানি কোম্পানির কাছে এটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা শুরু থেকেই হচ্ছিল। জাপানি এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎজ করপোরেশন ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন। মার্চ ও এপ্রিলে জাপানি কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা।

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই টার্মিনালটি উদ্বোধনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ৩১ জুলাই দরপত্র জমা দেবে জাপানি কনসোর্টিয়াম। এরপর সিদ্ধান্ত।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান ও ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান ডানাটা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করে। সম্প্রতি ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আবদুল্লাহ আলহামুদির মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি উঠে আসে।

আলোচনার সময় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত রাজধানীর আসন্ন তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ডানাটার আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন।

ডানাটা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, পণ্য পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ, ভ্রমণ এবং অন্যান্য সেবা দিয়ে থাকে। এর আগে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাপানি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করা হয়। ফলে প্রায় দেড় বছর বিমানবন্দরের এই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর কাজ থমকে থাকে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। টার্মিনালটি চালু না হলেও গত জুন থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ২০৫৬ সাল পর্যন্ত এই কিস্তি চলবে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD