শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন




কঠিন সময়ে স্বপ্নের কাব্য

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ ১১:৩১ am
tariq Tarique Rahman Tarique Rahman তারেক রহমান Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি tarek-rahman tarek-Parla
file pic

ইংরেজ কবি টিএস এলিয়টের ভাষায়, ‘স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝখানে সব সময়ই একটি ছায়া থাকে।’ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটও ঠিক সেই ছায়ার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে একদিকে রয়েছে রাজস্বের দুর্বল ভিত্তি, আর অন্যদিকে ব্যয় ও উন্নয়নের বিশাল প্রতিশ্রুতি। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির দেওয়া এই বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির’ স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ের কঠিন বাস্তবতায় এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তাই এই বাজেট কি সংকট উত্তরণের কোনো কার্যকর মানচিত্র, নাকি শুধুই কঠিন সময়ের এক বিলাসী কাব্য, তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সেই অনিশ্চয়তার কথা স্বীকারও করেছেন। অবশ্য সরকারের যুক্তি-সংকটের সময়ই বড় স্বপ্ন দেখতে হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ না বাড়ালে বৈষম্য কমবে না। অর্থনীতির ভিত্তিও শক্তিশালী হবে না। বাজেটে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বিবেচনায় মোটা দাগে তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-মূল্যস্ফীতির অব্যাহত চাপ নিয়ন্ত্রণ, বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জনপ্রত্যাশা পূরণ।

একটি দেশের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের আর্থিক রূপ হলো বাজেট। এর মৌলিক সূচকগুলোর মধ্যে ব্যয়-আয়ের রূপরেখা থাকে। পাশাপাশি দেশের মানুষকে স্বস্তি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দিকনির্দেশনা এবং অর্থনীতির স্বাস্থ্য বুঝতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা থাকে। প্রস্তাবিত বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে আয় জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্নকথা। সরকারের আয়ের খাতগুলো একেবারে সংকুচিত হয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি যে কোনো সময়ের চেয়ে চ্যালেঞ্জে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অভাব, ঋণের সুদ পরিশোধ, রাজস্ব আদায় কম এবং ভর্তুকি-কোনো কিছুই সরকারের অনুকূলে নেই। অস্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রার বাজার। উন্নয়ন সহযোগীদের মূল্যায়নেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের ঋণ বন্ধ করেছে। ঋণ চালু রাখতে তারা সবকিছু মনিটরিং করছে। আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি (ফিচ) তাদের রেটিংয়ে বাংলাদেশের মান নামিয়ে দিয়েছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে তা বলা কঠিন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে এসব চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে আয়ের লক্ষ্য অর্জন শুধু কঠিনই নয়; বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একেবারেই অসম্ভব।

সরকারের ভাষ্য, ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ’ ও ‘সবার জন্য উন্নয়ন’ দর্শনের ভিত্তিতে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এজন্য ১০টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসের মাধ্যমে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। তবে স্বপ্ন দেখতে দোষ কোথায়। কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘বিশ্বাস করো, আর না-ই করো, মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।’ সরকারের এই বাজেটে স্বপ্নের অভাব নেই। কিন্তু স্বপ্ন যত বড় হবে, বাস্তবতার পরীক্ষাও তত কঠিন হবে।

বাজেট বক্তৃতা ও অর্থবিলে যে কথাটি বারবার এসেছে, তা হলো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন। এ লক্ষ্যেই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে ৭ বছর সর্বোচ্চ বরাদ্দ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্ব পাবে। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যদি প্রশ্ন করা হয়, এবারের বাজেটে সবচেয়ে অসম্ভব দিক কোনটি। অধিকাংশ বিশ্লেষকের কাছ থেকেই এই উত্তর আসবে-মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

এবার ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এবারের বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি শিক্ষা খাত। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৫৭ শতাংশ বেশি। সরকার জানিয়েছে, ধাপে ধাপে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংস্কারও বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার। খেলাপি ঋণ কমানো, আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে নানা পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে দুর্বল ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়। সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যও ঘোষণা করেছে। শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতেও নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। এই সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে। পারস্যের কবি রুমি লিখেছিলেন, ‘গতকাল আমি চালাক ছিলাম। তাই বিশ্ব বদলাতে চেয়েছি। আজ আমি জ্ঞানী। তাই নিজেকে বদলাতে চাই।’ অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা, এসব বদলানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। কিন্তু রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা, কর ফাঁকি, অদক্ষতা ও অপচয় কমানোর দায়িত্ব আমাদেরই। বাজেটে সে ধরনের কিছু ঘোষণাও আছে। এই বাজেট তাই এক অদ্ভুত দ্বৈততার গল্প। একদিকে এটি আশার দলিল, অন্যদিকে সতর্কতার সংকেত। একদিকে কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন, অন্যদিকে সীমিত সম্পদের বাস্তবতা। এর অধিকাংশ কর্মসূচিই বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ। বাস্তবায়ন কর্মসূচি খুব কমই আছে।

নতুন করের ক্ষেত্রে চাপ বা স্বস্তি দুটোই আছে। করের সামগ্রিক কাঠামোতে বড় ব্যবসায়ীরা বেশি সুযোগ পাবে। বিপরীতে চাপে পড়বেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। সরকার বলছে, করের হার নয়, বাড়ানো হচ্ছে আওতা। করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা এবং অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক খাত সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি এবং স্টার্টআপের স্বীকৃতি মিলছে। তবে আমদানিনির্ভর পণ্য এবং ডিজিটাল সেবায় কর বাড়ছে। ফলে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়বে এসব খাত। কর ব্যবস্থা আরও প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক এবং বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা, কর প্রশাসনের সক্ষমতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ওপর।

এবার ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সার এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নির্দিষ্ট সেবা ভ্যাটমুক্ত থাকবে। বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ফ্রিল্যান্সিং কর্মবাজারে বাংলাদেশের লাখো তরুণ অনলাইনভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। ফলে এ খাত ভ্যাটের চাপমুক্ত রাখা সরকারের স্মার্ট অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।

অর্থবিলে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো ‘স্ট্যান্ডার্ড স্টার্টআপ’ সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, নতুন ব্যবসায়িক মডেল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি কিংবা নতুন পণ্য উদ্ভাবনে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সম্ভাবনাময় খাতটি আইনি ভিত্তি পেল।

করের আওতা বাড়ানোর কথা বলছে সরকার। অর্থ আইনের অন্যতম বড় বার্তা হলো ব্যবসাকে আরও বেশি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা। এখন ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিআইএন প্রয়োজন হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন করের বাইরে থাকা বহু ব্যবসা ও লেনদেন শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা আসবে করের আওতায়। আয় বাড়াতে কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের ক্ষমতা।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কর ফাঁকি শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ, তদন্ত, তল্লাশি পরিচালনা, নথি জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আইনি স্বীকৃতি মিলেছে ডিজিটাল হিসাবব্যবস্থার। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসাবে ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) এবং অনুমোদিত সফটওয়্যারে সংরক্ষিত হিসাবকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাগজনির্ভর হিসাবব্যবস্থার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর হিসাব ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বাড়বে। একই সঙ্গে কর কর্তৃপক্ষের জন্যও তথ্য যাচাই ও নিরীক্ষা সহজ হবে। বিদেশ থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর আওতায় ক্লাউড কম্পিউটিং, সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, অনলাইন ডেটা সেবা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা অন্তর্ভুক্ত হবে।

রাজস্ব আহরণের আরেকটি বড় উৎস হিসাবে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। আমদানি করা আম, আপেল, আঙুরসহ বিভিন্ন ফলের ওপর ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চকলেট, বিস্কুট, ওয়েফার, আলুর চিপস এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপরও উচ্চহারে কর নির্ধারণ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও রাজস্ব-উভয় বিবেচনায় তামাকজাত পণ্য, কোমল পানীয় এবং মদ্যপণ্যের ওপর উচ্চ করহার বহাল রাখা হয়েছে। কোমল পানীয়ের ওপর ১০০, বিয়ারে ২৫০ এবং বিভিন্ন ধরনের মদের ওপর ৩৫০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও উচ্চকর আরোপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য পৃথক মূল্যভিত্তিক কর কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। কম মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে করহার কম রাখা হলেও উচ্চমূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে কর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। হিমঘরে লাশ রাখলে তার খরচ কমানো হয়েছে।

স্প্যানিশ কবি আন্তোনিও মাচাদো লিখেছিলেন, ‘পথ আগে থেকে তৈরি থাকে না। হাঁটতে হাঁটতেই পথ তৈরি হয়।’ বাংলাদেশের অর্থনীতিও আজ ঠিক সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে। বাজেট একটি পথের মানচিত্র দেখিয়েছে, কিন্তু সেই পথ বাস্তবে তৈরি হবে রাজস্ব সংস্কার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সুশাসনের মধ্য দিয়ে। এবারের বাজেটের পদক্ষেপের মধ্যদিয়ে শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়ায় সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী এক বছর।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD