শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন




১১ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৪৪ কোটি ডলার: সংসদে অর্থমন্ত্রী

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩ ৯:১৫ pm
EX Abu Hena Mohammad Mustafa Kamal Finance আবু হেনা মোহাম্মাদ মুস্তাফা কামাল লোটাস অর্থমন্ত্রী
file pic

২০২১-২২ অর্থবছরে দশটি শীর্ষ রেমিট্যান্স উৎস দেশের তালিকা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব দেশ থেকে আহরিত অর্থের পরিমাণও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) ১১ মাসে (জুলাই-মে) এক হাজার ৯৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন মন্ত্রী। আজ রোববার (২৫ জুন) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৪২ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। সেদেশ থেকে ৩ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২ হাজার ৭১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্য ২ হাজার ৩৯ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, কুয়েত থেকে ১ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার, কাতার থেকে ১ হাজার ৩৪৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, ইতালি থেকে ১ হাজার ৫৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার, ওমান থেকে ৮৯৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার, বাহরাইন থেকে ৫৬৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্সের বিষয়ে মো. মামুনুর রশীদ কিরণের এক প্রশ্নের জবাবে আহম মুস্তফা কামাল বলেন, চলতি অর্থ বছরের (২০২২-২৩) ১১ মাসে (জুলাই-মে) রেমিট্যান্স এসেছে এক হাজার ৯৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার পাঠিয়েছে। গত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশের ওপর ও প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের ওপর আগে থেকেই উৎসে আয়কর ধার্য্য আছে। তবে এর ফলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও প্রাইজবন্ড বিক্রি কমেনি। উৎসে আয়কর প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলেও জানান তিনি।

সরকারি দলের হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিল ৯৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। স্থানীয় পর্যায়ে মুসকের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিলো ৮৪ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিলো ৯৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, বৈশ্বিক মহামারীর কারণে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম সীমিত হওয়ায় তিন হাজার ৮৯৬ কোটি, আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু পণ্যে কর অব্যাহতি দেয়ায় ৩৪৪ কোটি, বিদ্যুৎ সরবরাহ খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫০৬ কোটি, জ্বালানী সংকটের কারণে সিরামিকসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে যাওয়ায় রাজস্বের পরিমাণ কমেছে। করোনা পরবর্তী সময়ে আমদানি পর্যায়ে কাঁচামালের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে কাস্টম ডিউটি বাড়লেও স্থানীয় পর্যায়ের রেয়াতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রাজস্ব কমেছে। ব্যাংকিং সেবাখাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এক হাজার ৪৮২ কোটি কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। এছাড়াও কয়েকটি খাত যেমন পিওএল ( পেট্রোলিয়াম, ওয়েল ও লুব্রিকেন্ট) পণ্য খাতে ২৮৮ কোটি, সিগারেট খাতে সাত হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা, মোবাইল ফোন খাতে দুই হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা কম রাজস্ব আয় রয়েছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, নতুন করদাতা শনাক্তকরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ লাখ ৬০ হাজার ৮১৭ জন। চলমান অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২৭ হাজার ৩৪৬ জন করদাতা শনাক্তকরণ সম্ভব হয়েছে। ভোলা -২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ হতে (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অংশ) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ হতে (স্ট্যাম্প বিক্রয় নন-জুডিশিয়াল) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ৯১ দশমিক ১৭ ভাগ অর্জিত হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD