দেশে প্রায় সব জিনিসের দাম বাড়লেও কমেছে কোরবানির চামড়ার দাম। তবে বেড়েছে জুতা-স্যান্ডেলসহ সব ধরনের চামড়াজাত পণ্যের দাম। এক দশক ধরে বিশেষ সিন্ডিকেটের কারণে চামড়ার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ক্ষুদ্র ব্যবাসয়ীরা।
গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আজহায় ন্যায্যমূল্য তো দূরের কথা, চামড়া কিনতে বহু এলাকায় ক্রেতারই খোঁজ মিলছে না। এমন অবস্থায়, চামড়া পাচাররোধে সাতক্ষীরার সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি ও আইনশৃখঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে, এ বছর সরকার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা করেছে। বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম বাড়লেও দেশে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।
সাতক্ষীরা জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সাধারণ সম্পাদক শেখ ওলিউর রহমান জানান, কাঁচা চামড়া সংগ্রহের বড় একটি মোকাম সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরা। এখানে ব্যবসায়ীরা সারা বছর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে ট্যানারিতে সরবরাহ করে থাকে। সারা বছরের কাঁচা চামড়ার বিশাল একটি অংশ কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে চামড়া শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে।
তিনি আরও জানান, গত বছর থেকে হঠাৎ করে চামড়ার দাম পড়ে যাওয়ায় কাঁচা চামড়া মাটিতে পুতে ফেলা ও নদীতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরা কাঁচা চামড়া নিয়ে বছরের পর বছর টাকা পরিশোধ না করায় লোকশানে পড়ে ব্যবসা ছেড়েছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
চামড়া ব্যাবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদে কাঁচা চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ খুবই কম ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তবে সরকার ব্লু লেদার বিদেশে রপ্তানির সুযোগ করে দিলে আবারও চামড়ার চাহিদা বাড়বে ও চামড়া শিল্পে সুদিন ফিরবে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, চামড়া পাচাররোধে সাতক্ষীরার ২৩৮ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বিজিবি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান জানান, চামড়া পাচার রোধে বিজিবির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ চেকপোস্ট বসানোসহ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।