শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন




কর অব্যাহতির কারণে অর্জিত হচ্ছে না রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২ জুলাই, ২০২৩ ১০:৪৩ am
করদাতা nbr National Board of Revenue জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর nbr আয়কর রিটার্ন Income tax National Income Tax Day জাতীয় আয়কর দিবস আয়কর দিবস aikor nbr National Board of Revenue জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর NBRএনবিআরভবন
file pic

কর অব্যাহতির কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২২-২০২৩ অর্থবছর সরকার বিভিন্ন কারণে কর অব্যাহতি দিয়েছে। আর এ কারণে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৪১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এই কর রেয়াতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কর অব্যাহতির পরিমাণ বেড়েছে ৫২ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে যা ৪২ শতাংশ।

কর অব্যাহতিকে আক্ষরিক অর্থে বলা হয় ‘প্রত্যক্ষ কর ব্যয়’ বা ডিরেক্ট ট্যাক্স এক্সপেনডিচার। অর্থমন্ত্রণালয় ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, প্রত্যক্ষ কর অব্যাহতির বিশালতার কারণে দেশের কর-জিডিপি’র হার বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রত্যক্ষ কর ব্যয় বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনটি প্যারাগ্রাফ বরাদ্দ করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘প্রত্যক্ষ কর ব্যয়’ বলতে রেয়াত, ছাড়, অব্যাহতি, হ্রাসকৃতহারে করারোপ এবং মোট করযোগ্য আয় পরিগণনা থেকে আয় বাদ দেওয়াকে বোঝায়। এটি এক ধরনের ভর্তুকি। অর্থাৎ, এই ভর্তুকির যদি কর হিসাবে আহরিত হতো তাহলে মোট আহরিত করের সঙ্গে এটি যুক্ত হতো এবং করের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতো। তবে প্রত্যক্ষ কর ব্যয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রণোদনা, সামাজিক সাম্যব্যবস্থা ও শিল্প সহায়তার সঙ্গে সামগ্রিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় বলেও অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রত্যক্ষ কর ব্যয় প্রাক্কলিত ১ লাখ ২৫ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার মধ্যে করপোরেট পর্যায়ে কর রেয়াত ছিল ৮৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে যা ছিল ৪০ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। সামগ্রিকভাবে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য এই প্রত্যক্ষ কর ব্যয় বা কর রেয়াতের পরিমাণ ছিল মোট জিডিপি’র ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রক্ষেপিত মোট জিডিপি’র আকার বিবেচনায় নিয়ে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ‘প্রত্যক্ষ কর ব্যয়’-এর মোট পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৪১ কোটি টাকার ঘরে। আবার এর সঙ্গে প্রাক্কলিত ভর্তুকির পরিমাণ যোগ করলে এর পরিমাণ হবে ২ লাখ ৮৯ হাজার ২২৮ কোটি টাকা। তবে অধিকাংশ কর অব্যাহতি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে দেওয়া হয় বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তিনি অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, রাজনৈতিক অর্থনীতির কারণে এনবিআর রাজস্ব আয়ে পিছিয়ে আছে। রাজস্ব আয় বাড়াতে এখন বড় বাধা রাজনৈতিক অর্থনীতি। কারণ অনেক খাতেই কর অবকাশ সুবিধা দিতে হচ্ছে। বিশেষ কর হার আরোপ করতে হচ্ছে। তাছাড়া, সংসদ সদস্যদের অনেকেই ব্যবসায়ী হওয়ায় তারাও কর ছাড়ের সুবিধা নিতে চাইছে। এসব কারণে বছরে আড়াই লাখ কোটি টাকা কর ছাড় দিতে হচ্ছে। এ সবই রাজনৈতিক অর্থনীতির স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণেই কাঙ্খিত রাজস্ব আয় হচ্ছে না।

এ দিকে, কর-জিডিপি’র হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি গত মাসে জাতীয় সংসদে দেওয়া তার বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, অপরিহার্য কোনো কারণ ছাড়া আমরা কর অব্যাহতির কোনো এসআরও (বিধিবদ্ধ আইনি প্রজ্ঞাপন) জারি করা পরিহার করবো। এর ফলে রাজস্ব ঘাটতি কমে যাবে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত খাত থেকে কর আদায় করা হলে, প্রকৃত কর-জিডিপি অনুপাত অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন কর-জিডিপি’র হার ৯ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে এই হার ছিল ৯ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশে। ফলে ১৪ বছরের ব্যবধানে কর-জিডিপি’র হার বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। অন্য দিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশে এই হার ১৫ থেকে ২৫ শতাংশের ঘরে রয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD