শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সহজ ম্যাচ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশ দলের। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে পরাজয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে দলের টপ অর্ডার ব্যাটারদের। মিডল অর্ডারের তাওহীদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই যেন বারবার ত্রাতা হচ্ছেন। বোলাররা খেলছেন ধারাবাহিক।
মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভাটা পড়ছে দলের পারফরম্যান্স। এটাই যেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাম্প্রতিক সময়ের চিত্র। দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকে বিশ্বকাপ, এভাবেই চলছে বাংলাদেশ।
চলমান বিশ্বকাপের সুপার এইটে যেতে হলে আজ নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। প্রথম দুই ম্যাচের একটিতে জয় ও একটিতে পরাজয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টাইগাররা। আজ জিতলে অবস্থান মজবুদ হবে বাংলাদেশ দলের। ২০০৭ সালের উদ্বোধনী আসরের পর থেকে গ্রুপ পর্ব আর পার হতে পারেনি টাইগার। গত ১৭ বছরের সেই আক্ষেপ মেটাতে আজ (বৃহস্পতিবার) জয় চাই হৃদয়-মাহমুদউল্লাহরা। আর সেজন্য দরকার ব্যাটিং অর্ডারের ধারাবাহিকতা।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বুধবার (১২ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন অধিনায়ক শান্ত। সেখানে ব্যাটারদের নিয়েই প্রশ্ন হলো বেশি। শান্ত নিজেও রানে নেই। বাড়তি চাপ আছে কি না অধিনায়ক হিসেবে– এমন এক প্রশ্নের উত্তরে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই (আমার) ব্যাটিংটা ভালো হয়নি। রান করতে হবে ব্যাটার হিসেবে। বাড়তি কোনো চাপ ফিল করছি না। যদি শুরু পাই অবশ্যই দলের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’
নিজের ব্যাটিং নিয়ে কাপ্তান শান্ত যোগ করেন, ‘অধিনায়ক দেখে এমন না যে প্রতিদিনই ভালো খেলতে হবে। এরকমও ফিল করছি না। আমার দায়িত্ব আছে আমি একজন ব্যাটার হিসেবে কতটুকু অবদান রাখতে পারি। এটা নিয়ে আমি পরিশ্রম করছি এবং আশা করছি যে সামনে ভালো কিছু হবে।’
দলের ব্যাটিং প্রসঙ্গে শান্ত জানান, ‘সত্যি কথা বলতে ২-৩ জন ভালো করছে। লিটন একটা ইনিংস ভালো ব্যাট করেছে, হৃদয় ভালো ব্যাটিং করছে, রিয়াদ ভাই ভালো টাচে আছে। টি-টোয়েন্টিতে আমার কাছে মনে হয় যে ভালো করতেসে ওই দিনটাতে তার খেলাটা শেষ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি কখনও আশা করব না ৭ জন ব্যাটারই ভালো খেলবে। আমি চাই যে সেট হচ্ছে সে যেন শেষ করে আসে। অবশ্যই উপর থেকে ভালো হলে ভালো, তবে আমি চাই যে সেট হচ্ছে ও যেন খেলাটা শেষ করে।’
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই যেখানেই আমরা খেলতে যাই সেখানেই আমাদের সমর্থকরা চলে আসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে সমর্থকরা আমাদের দলকে সমর্থন করতে চলে আসে। যেটা আমরা মনে করেছি। হোটেলে ছিলাম আমরা, অনেক মানুষ আমাদের খেলা নিয়ে কথা বলছে। ভালো লাগছে। আশা করি আগামীকালও দর্শকরা আসবে এবং আমাদের সমর্থন দিয়ে যাবে।’
শান্ত আরও বলেছেন, ‘দর্শকের কথা যেটা বললাম খুবই ভালো লেগেছে, নিউইয়র্কে বা ডালাসে যখন খেললাম অনেকে এসে সাপোর্ট করেছে। বেশিরভাগ দর্শক আমাদের ছিল। যেটা অবশ্যই প্রতিটা দলের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা তো থাকেই। আমি আশা করব কালকেও দর্শকরা আসবেন। বাংলাদেশ থেকে না হোক এখান থেকে যারা লোকাল আছেন। এর যতবার সিরিজ খেলতে এসেছি প্রতিবার কিন্তু আমাদের সাপোর্টার ছিল।’