চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক তাফসীরুল কোরআন মাহফিল শেষ হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই মাহফিলে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ জমায়েত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ নামে একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ থাকলেও দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এই মাহফিলকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরী জামায়াত সমর্থকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সোমবার (২৭শে জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়ে এই তাফসির মাহফিল ৩১শে জানুয়ারি শেষ হয়। প্রতিদিন বিকাল থেকে শুরু হওয়া এই মাহফিল চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। মাহফিলে বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ওয়ায়েজ আলোচনা পেশ করলেও সবার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এই সময়ের আইকনিক বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। মাহফিলে অন্যদের মধ্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন, চসিক মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন, জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম, মহানগর জামায়াতের আমীর শাহজাহান চৌধুরী অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে এই তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করে আসছে জামায়াত ঘরনার সংগঠন ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ। এ আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন প্রয়াত ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। তার উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হতো পুরো প্যারেড ময়দান ও আশপাশের এলাকা। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের বাধায় ২০০৬ সালের পর থেকে সেখানে আর মাহফিল করতে পারেননি আয়োজকরা। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে দীর্ঘ ১৭ বছর পর এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে মাহফিল। আর এবারের মাহফিলের উপস্থিতি অতিক্রম করেছে অতীতের সব রেকর্ড।
সরজমিন শুক্রবার সন্ধ্যায় দেখা যায়, প্যারেড মাঠে মূল প্যান্ডেল হলেও উপস্থিতি প্রায় অর্ধ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সন্ধ্যার পর মূল আলোচনা শুরু হলেও দুপুরের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় এই মাঠ। এর মধ্যে সন্ধ্যার পর ঢেউ নামে জনতার। নগরের জামাল খান মোড় থেকে চকবাজার হয়ে কাতালগঞ্জ, চট্টেশ্বরী মোড়, চমেক, সিরাজ-উদ-দৌলা রোড পর্যন্ত ভিড় ছিল জনতার। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড় পর্দায় ওয়াজ শুনছিল ধর্মপ্রাণ মানুষ। এর মধ্যে নারীদের জন্য চকবাজারের আশাপাশের এলাকায় করা হয়েছিল ছয়টি বড় প্যান্ডেল। সেখানে ১ লাখ ৩০ হাজার নারীর ধারণক্ষমতা ছিল। তবে জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ায় অনেক নারী রাস্তার আশপাশেও বসে ওয়াজ শোনেন।
এদিকে মাহফিল ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল আয়োজকদের। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন প্রায় ৮ হাজার। যে কারণে শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়নি। এর মধ্যে এত বড় আয়োজনের পরও যানজট তৈরি হয়নি শহরে। স্বাভাবিক মাহফিলের বাইরে গিয়ে রাত ১০টার মধ্যে মাহফিল শেষ করে দেয়া ও বাইরে উচ্চস্বরের মাইক না দেয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন আয়োজকরা। মাহফিল শুনতে আসা মোহাম্মদ হোসাইন নামে একজন মুসল্লি মানবজমিনকে বলেন, ‘তাফসির শুনতে শুক্রবার সকালে বাঁশখালী থেকে এসেছি। আয়োজন অনেক গুছানো ছিল। তবে মাহফিলে জামায়াত ঘরানার আলেমদের বাইরে কাউকে রাখা হয়নি। সব মতের আলেমদের প্রতিনিধি রাখা হলে আয়োজনটা সার্বজনীন হতো।