রাজধানীর মালিবাগের ফরচুন শপিংমলে ‘শম্পা জুয়েলার্স’-এ চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ চুরির ঘটনায় ১৯০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শুক্রবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শাহিন মাতব্বর ওরফে শাহিন (৪৬), নুরুল ইসলাম (৩৩), উত্তম চন্দ্র সূর (৪৯) ও অনিতা রায় (৩১)।
অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৮ই অক্টোবর রাতে ফরচুন মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত শম্পা জুয়েলার্সে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রমনা থানায় মামলা দায়েরের পর আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। রমনা থানায় মামলা দায়েরের পর ডিবি’র তিনটি টিম ৭২ ঘণ্টা অভিযান চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্য-প্রযুক্তি ও মাঠ গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে শাহিন মাতব্বরকে গ্রেপ্তার ও ফরিদপুর থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। পরে বরিশাল থেকে আরও দুইজন এবং ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সমন্বয়কারী নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। নুরুল ইসলাম মোটরসাইকেলে করে দোকান ও মার্কেটে রেকি করতো।
ডিবি জানায়, চক্রটি পেশাদার ও সংঘবদ্ধ। তারা প্রায় তিন মাস ধরে দোকানটি পর্যবেক্ষণ করে চুরির পরিকল্পনা নেয়। ঘটনার আগের দিন বাথরুমের জানালায় চিকন সুতা বেঁধে যায়, পরে রাতে সেই সুতার সঙ্গে রশি বেঁধে উপরে উঠে গ্রিল কেটে মার্কেটে প্রবেশ করে চুরি করে। আসামিরা গত তিন মাস ধরে ফরচুন শপিং মলের স্বর্ণালংকার চুরির পরিকল্পনা করছিল। সে অনুযায়ী তারা বেশ কয়েকবার রেকি করে। চুরির উদ্দেশ্যে তারা হাতুড়ি, শাবলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আগে থেকেই মার্কেটের পেছনে টিনের চালের নিচে লুকিয়ে রাখে। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আসামিরা গণপূর্ত কোয়ার্টারের ভেতর দিয়ে মার্কেটের পেছনে পৌঁছে। আগে থেকে বাঁধা সুতার সঙ্গে দড়ি বেঁধে তারা ছাদে উঠে গ্রিল কেটে বাথরুমে প্রবেশ করে এবং বোরকা পরা অবস্থায় বাথরুমের দরজা ভেঙে শপিংমলে প্রবেশ করে শম্পা জুয়েলার্সে হানা দেয়। ভোর আনুমানিক ৪টা ২৫ মিনিট থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে একই পথে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় তারা ব্যবহৃত বোরকা ও সরঞ্জাম গণপূর্ত কোয়ার্টারের সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে যায়।
তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনের স্ত্রীও চুরির বিষয়ে জানতেন এবং সহযোগিতা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, চুরি যাওয়া দোকানের মালিক দাবি করেছেন, দোকানে মোট ৫০০ ভরি স্বর্ণ ছিল। উদ্ধার হয়েছে ১৯০ ভরি। বাকি স্বর্ণের সন্ধান পেতে তদন্ত চলছে। একজন আসামি এখনো পলাতক। তিনি জানান, উদ্ধার স্বর্ণের কিছু অংশ গলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। চক্রের সদস্যরা সাধারণত কৃষিকাজ ও গরুর ফার্মে কাজ করতো। গোপনে পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের চুরির প্রস্তুতি নিতো। সুযোগ পেলেই স্বর্ণ বা মূল্যবান জিনিস চুরি করতো। mzamin.com