পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার বলেছেন, ভারত পানিকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করতে চায়। এমন পদক্ষেপের গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
এক ভিডিও বার্তায় দার বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সিন্ধু পানি চুক্তি মেনে চলা ভারতের দায়িত্ব। পাকিস্তানের জনগণকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যেকোনো চেষ্টা মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারত একতরফাভাবে ও বেআইনিভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মতে, চুক্তির কাঠামোতে বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির স্পষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।
ইসহাক দার বলেন, পাকিস্তান জাতিসংঘ সনদ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন, কারণ পাকিস্তান এ সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাকিস্তান সব দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে করতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের পদক্ষেপকে জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী নদী ও জলসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির প্রতি সম্মান দেখানো অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান বরাবরই সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় থাকা বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আইনি পথ অনুসরণ করে এসেছে। ভারত সিন্ধু নদী অববাহিকায় জলাধার সম্প্রসারণ ও পানি সরিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তার মতে, এসব প্রকল্প নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তন করতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ইসহাক দার জোর দিয়ে বলেন, পানিকে কখনোই চাপ প্রয়োগ বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। পাকিস্তানের জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
(যুগান্তর)