মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন




ফুটবল বিশ্বকাপ

আর্জেন্টিনাকে দুঃখে ভাসিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ৭:৫৭ am
FIFA Logo federation international football association FIFA World Cup ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল এসোসিয়েশন ফিফা FIFA football World Cup Qatar কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল Stadium FIFA football World Cup Qatar কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল স্টেডিয়াম
file pic

কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দল আর্জেন্টিনা। ধার-ভারের প্রতি সম্মান দেখাতে হতো আকাশি-সাদা জার্সি ধারীদের। কিন্তু শেষ বাঁশির ঠিক আগে ছাড়া গোলের কোন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি তারা। নিতে পারেনি বলের দখলও। বরং পুরো ম্যাচে মেসিদের বোতলবন্দী করে ১-০ গোলের দারুণ জয় তুলে নিয়েছে স্পেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কীর্তি গড়েছে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের।

রোববার নিউ ইয়র্কের মেটলাইট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও গোল শূন্য সমতায় শেষ করে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বলের দখল ধরে রেখে লা ফুয়েন্তের দল প্রথমার্ধে দারুণ চারটি আক্রমণ তোলে। যার দুটি গোলের লক্ষ্যে থাকলেও আলবিসেলেস্তেদের গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ তা রুখে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন আরও পাঁচটি গোল হওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু নকআউট পর্বে ছয় গোল খাওয়া আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমি এদিন টুর্নামেন্টের সেরা ছন্দে ছিলেন। ইয়ামাল-তোরেস-ওলমোদের একের পর এক শট ফেরান তিনি। আক্রমণের সুযোগ না পেয়ে আর্জেন্টিনা ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময় পাড়ি দিয়ে পেনাল্টিতে নেওয়ার ছক কষছে।

তখনই ম্যাচের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচের ৯৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবার্সিকে কঠিন ফাউল করেন তিনি। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন তখনই ধুলোয় মিশে যায়।

ওই ধাক্কা সামলে অতিরিক্ত সময়ের আরো ১৫ মিনিট গোলবার অক্ষত রাখেন ওতামেন্ডি-মার্টিনেজরা। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে আর পারেননি। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করেন বার্সা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। ম্যাচের ৬২ মিনিটে বদলি নামা এই স্ট্রাইকারকে আর্জেন্টিনার গোলমুখে হেড করে বলে শট নেওয়ার সুযোগ করে দেন বদলি নামা নিকো উইলিয়াম। তোরেস শট জালে পাঠাতে ভুল করেননি। তার ওই শটেই ২০১০ বিশ্বকাপের পর শিরোপা ঘরে তুলল লা রোজারা। সেটাও সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে।

মেসি থামলেন। হিসেবের বাইরের এক ফুটবলার ফেরান তোরেস তার গতি রোধ করলেন। এলোমেলো হয়ে গেল সবকিছু। মেসির অপ্রতিরোধ্য গতি থেমে গেল। একইসঙ্গে ভেঙে গেল মেসির নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। চোখের জলে বিদায় নিলেন। এমনই হয়। তবে মেসির বিদায় উজ্জ্বল ও রোমাঞ্চকর হবে- তেমনটাই ভেবেছিল ফুটবল বিশ্ব। কিন্তু না পেলেন বিশ্বকাপ ট্রফি। না পেলেন গোল্ডেন বুটের সম্মান। লামিন ইয়ামালের বাহিনী তার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। ওদিকে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন। মেসি ফিরলেন শূন্য হাতে। তবে রেখে গেলেন আধুনিক ফুটবলের ছোঁয়া। যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।

‘৮৬ বিশ্বকাপ জিতে ম্যারাডোনা ইতিহাসের নায়ক হয়েছিলেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফিটা বেশ মানিয়েছিল। এবারও তিনি ছিলেন হট ফেভারিট। ধারণা করা গিয়েছিল, মেসির হাতেই হয়তো আবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ উপহারটা যাবে। কিন্তু ইয়ামাল বাহিনী তার সব পরিকল্পনা বানচাল করে দেন। বরং ১০০ মিনিট পর্যন্ত মেসি ছিলেন নিষ্প্রভ। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মেসি সম্ভবত আগেই বুঝতে পেরেছিলেন- ফলাফল এমনই হবে। কারণ গোটা আর্জেন্টিনা টিম স্পেনের আক্রমণ শুধু প্রতিহত করেছে। পাল্টা আক্রমণ শানাতে পারেনি। বিরতিহীন আক্রমণের মুখে আর্জেন্টাইন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ হার মানতে বাধ্য হন। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে আসা বলে দুর্দান্ত গোল করে শেষ পেরেকটা মেরে দেন বদলি নামা ফেরান তোরেস।

মেসি দূর থেকে দাঁড়িয়ে শুধু দেখছিলেন। তার চোখে তখন জল। তিনি জানতেন, খেলায় ফিরে আসা কঠিন। এর আগে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। স্পেনের মতো টিমের সঙ্গে ১০ জন নিয়ে জেতা বা খেলা খুবই কঠিন। স্পেন এবার সুসংগঠিত অনবদ্য এক টিম। যদিও এই আসরের শুরুটা ভালো ছিল না স্পেনের। ড্র করেছিল কেপ ভার্দের সঙ্গে। পরপর দু’বার বিশ্বকাপ নিয়ে মেসি নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চেয়েছিলেন। কপাল এমনই ৮ গোল করেও গোল্ডেন বুট পেলেন না। ফরাসি তারকা এমবাপ্পে ১০ গোল করে তার স্বপ্ন ভেঙে দেন। এখন মেসির কান্না ক্যামেরাবন্দি করছেন হাজার হাজার ফটো সাংবাদিক। টেলিভিশনের পর্দায় তা দেখা গেছে। মেসি শুধু কাঁদছেন। আর ইয়ামাল কীভাবে ট্রফিতে একের পর এক চুমু খাচ্ছেন তা দেখছেন। চুমু খাওয়ারই কথা। এই খেলার আগে অনেকেই বলেছিলেন, এটা গুরু-শিষ্যের লড়াই। তবে মেসি কিন্তু খুব সতর্ক মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, স্পেন খুব ভালো একটা দল। বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে দলটিতে।

এদের ফুটবলদর্শন বহুবার দেখেছি। আমি জানি, ওরা কেমন খেলবে। মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার সময় কেঁদেছিলেন। চোখের পানিতে তার বুক ভেসেছিল। আবেগআপ্লুত কণ্ঠে বলেছিলেন, গুডবাই বার্সেলোনা। বার্সেলোনার অনেক সতীর্থ স্পেন টিমে। তিনি হয়তো মনে মনে ভেবেছিলেন, এর প্রতিশোধ নেবেন। সেটা কি আর হয়! আটলান্টিকে অনেক পানি গড়িয়েছে। মেসির বয়স হয়েছে। তারও বিদায় নেয়ার সময়। এমনই একটা পরিস্থিতি তৈরি হলো- বাড়ির কাছে বিশ্বকাপ, সেটা তিনি জয় করতে পারলেন না। তবে আর্জেন্টিনাকে অনেক দিয়েছেন তিনি। ইতিহাসে তার নাম লেখা থাকবে। যে যাই বলুন না কেন, খেলাটা ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। স্পেন যেভাবে আক্রমণ করেছে তাতে কয়েক গোলেই জেতার কথা।

গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ যেভাবে বল প্রতিহত করেছেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর। মেটলাইফের ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক শ্বাসরুদ্ধকর এই খেলাটির ভাগ্য কী দাঁড়ায়- তা দেখার জন্য ছটফট করছিলেন। বিশ্বকাপে এবারও কোনো চমক হলো না। স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো। বিশ্বকাপের আসর বসেছে ২৩ বার। এর মধ্যে জয়ী হয়েছে ইউরোপের ছয়টি দেশ। আর লাতিন আমেরিকার তিনটি। এশিয়া-আফ্রিকা থেকে একবারও চ্যাম্পিয়ন হয়নি কোনো দল। উল্লেখ্য যে , ব্রাজিল ৫ বার, জার্মানি ৪ বার, ইতালি ৪ বার, আর্জেন্টিনা ৩ বার, ফ্রান্স ২ বার, উরুগুয়ে ২ বার আর স্পেন ২ বার। ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার। এবার তিন দেশে ৪৮ দলের খেলা। এটাই একটা বাড়তি চমক। তবে নতুন কিছু প্লেয়ারের আবির্ভাব ঘটেছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD