সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ অপরাহ্ন




সাবেক মন্ত্রীর ফ্ল্যাটে কী কী মিললো

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:৩৮ pm
Land Minister visits to Walton Headquarter ভূমিমন্ত্রী ও ভূমি সচিবের ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার পরিদর্শন Saifuzzaman Chowdhury ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী
file pic

সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশান-২-এর একটি ফ্ল্যাটে মিলেছে ৩০০ কোট, ৫৩২ টাই ও ১০০ কামিজ। এ ছাড়া, ৮টি ওয়াচ বক্স (রোলেক্স ৪) ও তিনটি মুক্তার সেট পাওয়া গেছে। মূলত গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর রোডের এই আলিশান বাড়িটির সন্ধান মেলে গত ডিসেম্বরে। যেখানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুদকের অভিযানে ফ্ল্যাট থেকে এসব জিনিস উদ্ধার করা হয়। দুদক বলছে, ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ বেঞ্চসহ ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবিসহ দুর্নীতির নানা আলামত মিললেও, অনেক মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা তাদের।

দুদক উপ-পরিচালক মশিউর রহমান জানান, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সম্পত্তির বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সাবেক এই ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিশ্বের ৯টি দেশে ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ২৮টি মামলায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণ হাতে পেয়েছে দুদক।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রথম দিনের অভিযানে দুই ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামীকাল সোমবারও ইনভেন্টরির কাজ চলবে। এরপর সব মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দখলে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গুলশান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দুদকের দাবি, ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি এবং দুর্নীতির নানান আলামত পাওয়া গেছে। তবে অনেক মূল্যবান মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

অভিযানের সময় একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের রোলেক্স সেলিনি (মডেল-৫০৫১৯)। এটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যার্ডস থেকে কেনা হয়। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ঘড়ির বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। আর নতুন বা অব্যবহৃত ঘড়ির দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ২১ লাখ টাকার কাছাকাছি।

দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির দাবি, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩০টি মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD