সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন




ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১:৫৮ pm
FIFA football World Cup Qatar কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল Stadium FIFA football World Cup Qatar কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল স্টেডিয়াম
file pic

বিশ্বকাপের মঞ্চে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে এতটা উত্তেজনায় ঠাসা হতে পারে, তা হয়তো ভাবেননি কেউই। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সান্ত্বনার লড়াইটি শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ১০ গোলের এক মহাকাব্যিক থ্রিলারে। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করল ইংল্যান্ড। গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই ইংলিশদের সেরা সাফল্য।

ইংল্যান্ডের এই জয়ে বুকোয়া সাকার হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একটি করে গোল করেন জুড বেলিংহাম, এজেরি কনসা ও ডেক্লান রাইস। দল হারলেও জোড়া গোলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। লিওনেল মেসির ২১ গোলকে পেছনে ফেলে ২২ গোল নিয়ে এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন এই ফরাসি তারকা। শুধু তাই নয়, চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করে গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়েও মেসিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি।

এদিন দুই দলই তাদের একাদশে সাতটি করে পরিবর্তন এনে ম্যাচটি শুরু করেছিল। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড ছিল অপ্রতিরোধ্য। ফরাসি রক্ষণকে ভড়কে দিয়ে প্রথমার্ধেই রীতিমতো গোল উৎসবে মেতে উঠেছিল তারা। মাত্র ৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে বক্সের বাইরে থেকে ডেক্লান রাইসের নেওয়া বুলেট গতির শটে ১-০ লিড পায় ইংল্যান্ড।

এরপর ১৮ মিনিটে ডেক্লান রাইসের নিখুঁত ক্রসে হেড থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান বুকোয়া সাকা। প্রতি-আক্রমণ থেকে মার্কাস রাশফোর্ডের সাথে দারুণ বোঝাপড়ায় গোল করে ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয় আর্সেনালের এই তারকা। কিন্তু ফরাসি রক্ষণভাগের বিপর্যয় এখানেই শেষ হয়নি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও আঘাত হানেন বুকায়ো সাকা। কনসার পাস থেকে বাঁ পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন এই তরুণ তুর্কি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে ফ্রান্স এই প্রথম প্রথমার্ধে ৪ গোল হজম করল। এছাড়া ১৯৯৪ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী সুইডেন-বুলগেরিয়া ম্যাচে ৪-০ স্কোরের যে রেকর্ড ছিল, ইংল্যান্ড প্রথমার্ধেই সেই রেকর্ড স্পর্শ করে ফেলল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় চিত্রপট। ৫২ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমানোর সূচনা করেন এমবাপ্পে। এর দুই মিনিট পর তার পাসেই বারকোলা গোল করলে পুরো স্টেডিয়ামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৩। এই ৬৬ মিনিটের গোলটিই এমবাপ্পেকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়।

এরপর ম্যাচের ৮৪ মিনিটে জেড স্পেনসকে বক্সে ফরাসি ডিফেন্ডার মাতো গাস্তো ফাউল করলে পেনাল্টির সংকেত দেন রেফারি। জুড বেলিংহাম নিজে পেনাল্টি না নিয়ে হ্যাটট্রিকের সুযোগ করে দেন বুকায়ো সাকাকে। স্পটকিক থেকে ৮৭ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন আর্সেনালের এই তারকা ফরোয়ার্ড। যোগ করা (৯০+৬) সময়ে কাট ইন করে বক্সে ঢুকে গোল বাঁয়ের শটে গোল করেন দেম্বেল।

এরপর ফ্রান্স সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে জুড বেলিংহামের গোলে ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম গুরুত্বের ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত দর্শকদের উপহার দিল বিশ্বকাপের অন্যতম আনন্দদায়ী এবং স্মরণীয় মুহূর্ত।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD