সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন




ডিসিসিআই মতবিনিময়

একবারে ৫ বছরের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেয়ার ঘোষণা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৩৪ pm
Dhaka Chamber of Commerce & Industry DCCI ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ডিসিসিআই
file pic

ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য একবারে ৫ বছরের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। একই সঙ্গে ঘরে বসে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন ফি পরিশোধের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) কার্যালয়ে ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই ও ডিএসসিসি যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমানসহ অনেকে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ট্রেড লাইসেন্স সেবা দ্রুত ও সহজ করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর জন্য এরই মধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রেড লাইসেন্স জাল হওয়ার ঘটনায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত জাল হয়ে গেছে। জাল হয়ে দেখা যায়, এইটা হাতে হাতে চলে যায়। সিটি করপোরেশন জানেই না, সিটি করপোরেশনের রাজস্বও পাচ্ছে না। মাঝখান দিয়ে আরেকটা চক্র ট্রেড লাইসেন্স জাল করে এটা দিয়ে দিচ্ছে।’ এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে আগের ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ব্যবসায়ীদের সেবা সহজ করার চেষ্টা চলছে।

‘সাইনবোর্ডের কর বাড়ানো হচ্ছে না’
সাইনবোর্ডের কর বাড়ানো হচ্ছে না জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রকৃত মাপ অনুযায়ী সাইনবোর্ডের কর নির্ধারণ করা হলে অনেক বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব। তিনি বলেন, অনেক ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে বড় আকারের একাধিক সাইনবোর্ড রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর প্রকৃত মাপ অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হয় না।
‘আমরা চাই, আসলে এগুলো কোনো জবরদস্তির ব্যাপার না, জোর করার ব্যাপার না। এগুলো আমাদের মিউচুয়াল ইন্টারেস্টে করতে হবে, মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মধ্যে করতে হবে’—বলেন আব্দুস সালাম। ব্যবসায়ীদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সিটি করপোরেশনের সেবা আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রাজস্ব ও বিভিন্ন ফি আদায়ের জন্য বর্তমানে একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, প্রয়োজনে আরও ব্যাংক যুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ‘ঘরে বসেই যাতে আপনারা ট্যাক্স দিতে পারেন, হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে পারেন, ট্রেড লাইসেন্সও রিনিউ করতে পারেন, সে ব্যাপারেও আমরা ব্যবস্থা নেব।’ এসময় ব্যবসায়ীদের পাঁচ বছরের জন্য একবারে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা করা সম্ভব। ‘আপনারা বলেছেন পাঁচ বছর, হ্যাঁ, এটা আমরা করতে পারি। কয়েকদিনের মধ্যেই আপনাদের জানাব যে পাঁচ বছরের মধ্যে আপনারা যে চান, পাঁচ বছরের একবারে রিনিউ করে নিন। সেই ব্যবস্থাটাও আমরা ইনশা আল্লাহ করে ফেলব’-বলেন তিনি।

বকেয়া ট্রেড লাইসেন্সের সমাধানে মার্কেটভিত্তিক উদ্যোগ
পুরান ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটের দীর্ঘদিনের বকেয়া ভাড়া, কর ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের বিষয়েও কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গা আছে যে ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ অনেক বছর ধরে হয় নাই। এই ধরনের যদি থাকে, আপনাদের ঢাকা চেম্বারের মাধ্যমে আপনারা যারা নেতা আছেন, আপনারা উদ্যোগ নেন, মার্কেটওয়াইজ উদ্যোগ নেন। আমি প্রতিনিধি পাঠাব। সেখানে বসে আপনারাই সমাধান করে ফেলেন।’

পুরান ঢাকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালুর আহ্বান
পুরান ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান এক ব্যবসায়ী। জবাবে আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা চাই পুরান ঢাকার আদি যে ঐতিহ্য আছে, ঐতিহ্যগুলোকে আমরা রক্ষা করতে চাই। ঢাকার অতীত, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ভাষা রয়েছে। এগুলোকে আবার জাগিয়ে তুলতে হবে। পুরান ঢাকাকে কেন্দ্র করে ৪১৬ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে একটি হেরিটেজ কর্মসূচি করার কথাও জানান তিনি।

‘ঢাকাকে ভালোবাসতে হবে’
ঢাকাকে শুধু বসবাসের জায়গা হিসেবে না দেখে নিজের শহর হিসেবে ভালোবাসার আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় এসে বসবাস করছে। অনেকের চতুর্থ প্রজন্মও ঢাকায় জন্মেছে। তারপরও অনেকে ঢাকাকে নিজের বাড়ি মনে করেন না। ‘এই বাড়িটা মনে করতে হবে। ঢাকাটাকে অন্তর থেকে ভালোবাসতে হবে। তাহলেই কিন্তু আজকের যে সমস্যাগুলো বলছেন, এই সমস্যাগুলো আমরা সর্ট আউট করতে পারব’—বলেন তিনি।

‘যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রের’
ঢাকার যানজট পরিস্থিতিকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, যানজটের কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আজকের মূল যে দুটো সমস্যা, ঢাকা শহর চলছে না। এটা সত্যি কথা। কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এই কারণে আপনাদের বিশেষ করে বেশিরভাগ ক্ষতি হচ্ছে। আপনাদের ক্ষতি মানে রাষ্ট্রের ক্ষতি। রাষ্ট্র এই ক্ষতি পোষাতে পারবে না।’

‘হকার-রিকশা উচ্ছেদ নয়, শৃঙ্খলা চাই’
হকার ও ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, হকারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই আন্দোলন শুরু হয়। একইভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়েও সংশ্লিষ্টরা বৈঠক করছেন। প্রশাসক বলেন, ‘আমরা তো উচ্ছেদ চাই না, কিন্তু একটা শৃঙ্খলা তো আসতে হবে। হকারদের যখনই হাত দেই, একটা মিটিং শুরু হয়, একটা আন্দোলন শুরু করে দেয়। কিন্তু এ ব্যাপারে আপনাদেরও সোচ্চার হতে হবে। শুধু পুলিশের ওপর সব দায়িত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ঢাকার নাগরিক ও ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।’ হকারদের কর না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আব্দুস সালাম বলেন, নাগরিকরা সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রকে কর দিলেও অনেক হকার কোনো কর দেন না। অথচ তাদের কারণে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আপনি যে ট্যাক্স আজ সিটি করপোরেশনকে দেন, রাষ্ট্রকে দেন— দেখেন এই হকার কয়টা পয়সা দিচ্ছে? অথচ ঢাকা শহরটাকে সবচেয়ে জঞ্জাল করছেন তারা।’ হকারদের ফুটপাত দখল, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ এবং পলিথিন ব্যবহারের কারণে নগরীর বর্জ্য ও জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD