বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন




এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বল স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়বহুল দুই প্রকল্প

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২:০৭ pm
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি উন্নয়ন প্রকল্প Development Project উন্নয়ন Annual Development Plan adp রোড সড়ক মহাসড়ক যানজট রাস্তা বাস গাড়ি সড়ক road bus gridlock Study in India comp
file pic

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা স্বাস্থ্য খাতে এবার সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যক্ষ্মা, এইচআইভি বা এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলা এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মা-শিশু ও অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাসেবা বাড়াতে প্রকল্প দুটিতে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আইএমইডির তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এডিপি বরাদ্দের মাত্র ৩১ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৩৬.৭২ শতাংশ অর্থ খরচ করতে পেরেছে। এমন বাস্তবতায় বড় অঙ্কের নতুন প্রকল্প নেওয়া নিয়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সভায় স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের মোট ১৫টি প্রকল্প উঠবে।

পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপির বিপরীতে বাস্তবায়ন হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের ৬৭.৫২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা এডিপি বাস্তবায়নের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা খাতগুলোর একটি স্বাস্থ্য।

এর মধ্যেই চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন এডিপিতে এ খাতে রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্থ এ খাতে দেওয়া হয়েছে। বাড়তি বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রস্তাবিত দুই প্রকল্পের মধ্যে ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইচআইভি/এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন করবে। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে প্রায় ৩ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। দ্য গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস, টিউবারকিউলোসিস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া থেকে অনুদান হিসেবে আসবে প্রায় ৮৭০ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির বড় অংশ ব্যয় হবে চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে। চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কেনায় ১ হাজার ৪৩০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ওষুধ ও টিকা সংগ্রহে ৯৫৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পুষ্টি সহায়তায় ব্যয় হবে ৪১৬ কোটি টাকা। স্থানীয় প্রশিক্ষণে ৭০ কোটি এবং জরিপে ১৪৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৭১৮ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ লাখ মানুষের প্রতিরোধমূলক যক্ষ্মা চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ২৩টি অগ্রাধিকার জেলায় চলমান কার্যক্রম ৬৪ জেলার হাসপাতাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। মেয়াদ শেষে সম্ভাব্য এইচআইভি আক্রান্তদের ৮৫ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণেও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের। এর মধ্যে বান্দরবানে ৪১ শতাংশ এবং রাঙামাটিতে ৩৬ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৯ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতি হাজারে আক্রান্তের হার একের নিচে নামিয়ে আনা এবং ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু শূন্যে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তবে প্রকল্পটির মূল্যায়নে কিছু দুর্বলতাও উঠে এসেছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগের কেনা চিকিৎসা সরঞ্জামের মাত্র ২০ শতাংশ সচল রয়েছে। তাই নতুন যন্ত্রপাতি কেনার আগে বিদ্যমান সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং বৈদেশিক অনুদান শেষ হওয়ার পর কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাস্তবসম্মত ‘এক্সিট প্ল্যান’ তৈরির কথা বলা হয়েছে। অন্য প্রকল্প ‘হেলথ সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং থ্রু এমএনসিএইচ সার্ভিসেস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড এনসিডি কন্ট্রোল’-এ ব্যয় হবে ৩৯৬ কোটি ৮১ লাখ ২০ হাজার টাকা। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৮ মেয়াদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রাস্ট এটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারের অর্থায়ন ৭৫ কোটি ৭৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং জাইকার ঋণ ৩২১ কোটি ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ১৪ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক, ৪৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ৩০টি জেলা হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। মা, নবজাতক ও শিশুর চিকিৎসার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা ও ফলোআপের ব্যবস্থা করা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে উচ্চতর প্রতিষ্ঠানে রোগী পাঠানোর রেফারেল ব্যবস্থাও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। হৃদরোগেই প্রায় ৩৪ শতাংশ মৃত্যু ঘটে। ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার ৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের হার ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে এসব রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কিনতে ১৪৩ কোটি ২১ লাখ টাকা, স্থানীয় প্রশিক্ষণে ১০৪ কোটি ৩৭ লাখ এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামে ৭৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। গবেষণায় ৮ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার এবং বিদেশি প্রশিক্ষণে ৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD