ইতালির ভেনিসে হামলার শিকার হওয়ার পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ করেছেন, হামলার পর তাঁর নিজের টিম তাঁকে উৎসবের বাকি আয়োজনে অংশ নিতে নিষেধ করেছিল।
বাঁধন বলেন, ‘আমি সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশে ফেরত আসছি। আমি ভালো আছি। প্রথমত আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার কাছে। তাঁর নেতৃত্বে এখানকার যত মন্ত্রণালয় আছে, সব জায়গা থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ঘটনার রাতেই সরকারি অফিস থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল।’
রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের উদ্দেশে বাঁধনের আহ্বান, দলকে ভালোবাসলেও যেন তাঁরা ‘দলকানা’ না হন। তিনি বলেন, ‘আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, দলকে সাপোর্ট করতে পারেন। কিন্তু আপনারা দলকানা হয়েন না। আজ আপনার যদি বিচার হয়, আপনার পরিবার সাফার করবে। কিন্তু যারা বড় বড় নেতা, যারা আরামে দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, বিদেশের মাটিতে বসে অডিও-ভিডিও বার্তা দিয়ে আপনাদের উসকে দিচ্ছেন, তাদের জীবন কিন্তু আপনাদের মতো নয়।’
ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন বাঁধন। তাঁর ভাষ্য, ‘ইতালিতে যে বাংলাদেশ দূতাবাস আছে, তাদের কাছে আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। সেখানে যে অ্যাম্বাসেডর আছেন, ভাইয়া, তিনি প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন।’
বাঁধন বলেন, ‘পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমাকে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রটেকশন দিয়েছে। আমি যে হোটেলে ছিলাম, সেই হোটেলের লবিতে সারাক্ষণ পুলিশ থাকত। আমি যখন বের হতাম, তখনও আমার সঙ্গে পুলিশ থাকত।’
ঘটনার দিনই পুলিশ স্টেশনে গিয়ে মামলা করার কথাও জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি সেদিনই কেস ফাইল করেছি। ওখানকার পুলিশ যথেষ্ট আমাকে সাহায্য করেছে এবং আমাকে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ প্রটেকশন দিয়েছে।’
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের মধ্যে এমন হামলার ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর বলে মনে করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমার প্রবাসী ভাইয়েরা আমার গায়ে হাত তুলেছেন, আমাকে আক্রমণ করেছেন, আমার সঙ্গে বর্বরতা করেছেন। এ কারণে বিদেশের মাটিতে আমাদের দেশের নাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বাঁধনের অনুরোধ, ‘আপনারা এত কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিদেশে কাজ করেন। আপনারা যে টাকা বাংলাদেশে পাঠান, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তাই আপনারা প্লিজ, প্লিজ এটা করবেন না।’
যারা হামলা চালিয়েছেন, তাঁদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘আপনারা যেটা করেছেন, সেটা খুবই অন্যায় হয়েছে, খুবই বর্বর কাজ হয়েছে। এটা আপনারা করবেন না।’
বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের প্রতিও ভবিষ্যতের রাজনীতির ধরন নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান তিনি। বাঁধনের ভাষায়, ‘আপনারা এমন রূপরেখা তৈরি করবেন না, যেটার জন্য ভবিষ্যতে আপনাদের লজ্জিত হতে হবে।’
তবে হামলার পর নিজের দলের আচরণে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আমাকে সাপোর্ট করেছেন, ইতালির সরকার আমাকে সাপোর্ট করেছে, আমাদের দেশের সরকার সাপোর্ট করেছে, ইতালিতে আমাদের যে অ্যাম্বাসি, তারা সাহায্য করেছে। কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজঅনার করেছে।’