শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন




জামায়াত নেতা মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৪৪ pm
জেলখানা arrested গ্রেফতার custody Arrest suspected observed crime charged গ্রেপ্তার আটক ধরপাকড় পুলিশ অভিযান মামলা আসামি কারাগার আদালত
file pic

রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মকর্তাকে হুমকি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, ডিএমপি’র গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে। বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ায় বর্তমানে তাকে বিমান বন্দর থানায় হস্তান্তরের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা।

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।

(মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন (মেজর আখতারুজ্জামান নামে পরিচিত) একজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা, কিশোরগঞ্জ জেলার রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।)

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার সমকালকে বলেন, মামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিপুল যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা লাগেজ পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD