বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন




পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

মেট্রোরেলের পিলারে ফাটলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:০৭ pm
Dhaka metro rail formal test run Dhaka Metro Rail ঢাকা মেট্রোরেল মেট্রোরেলের
file pic

মেট্রোরেলের পিলারে ফাটল ও বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বস্তুত এই যে এমআরটির লাইন সিক্সের যে অবস্থা, সেটার তদন্ত করা হচ্ছে এবং এটা এটা যেন দ্রুত নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্যতার জায়গায় আমরা নিতে পারি সে বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। এখানে যদি কোনো ত্রুটি কিংবা গাফিলতি কিংবা অবহেলা কিংবা কোনো দুর্নীতির কারণে এ ধরনের মানে দুর্বলতাগুলো তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে যে কয়েকটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আসছে, সেটা হচ্ছে কোয়ালিটি। বর্তমান সরকারের প্রধান গুরুত্বের জায়গা হচ্ছে যে আমরা বিপুল অর্থ ব্যয় করছি, কিন্তু একটা কোয়ালিটি সার্ভিস যেন আমরা পাই। দুই নম্বর জিনিস হচ্ছে যে, এই কোয়ালিটি সার্ভিসটা মেইনটেইন করার ক্ষেত্রেও এই যারা মানে অর্থ জোগানকারী প্রতিষ্ঠান এবং যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত মানে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, তাদের এখানে একটা কমপ্লায়েন্সে আনা হবে।

‘তিন নম্বর হচ্ছে, যেহেতু আন্ডারগ্রাউন্ড জায়গাটা আছে—যেটা হিসাবটা আগে ধরা হয়নি—ঝুঁকি। ঝুঁকি মানে হচ্ছে যতটুকু আন্ডারগ্রাউন্ড আছে, সেই আন্ডারগ্রাউন্ডের ওপরে যে আমাদের স্থাপনা, বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে অফিস-বিল্ডিং, রাস্তাঘাট সবকিছু, ওইখানে যদি কোনো অংশে ফাটল ধরে, কোনো দুর্ঘটনা হয়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো কিন্তু সেটার ক্ষতিপূরণ শুধু না, ওইটার রিপেয়ারমেন্ট থেকে শুরু করে সবকিছুর দায় নেবে; এবং এটা তিন বছরব্যাপী এই জিনিসটা তাদের থাকবে, বিশেষ করে ইয়ের… ক্ষেত্রে।’

মেট্রোরেল প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো দিক নতুন নতুন সংযোজন হয়েছে। যেসব সংযোজনের ফলে একদিকে যেমন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু অন্যদিকে নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত জায়গাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের বর্তমান সরকারের একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে প্রযুক্তি স্থানান্তর হবে সব প্রকল্পের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্রাইটেরিয়া।

‘প্রযুক্তি স্থানান্তরের ব্যবস্থাটা প্যারালালি আমরা কীভাবে শুরু করতে পারবো, অর্থাৎ আমাদের কেবল জনবলের দিক থেকে নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও প্রযুক্তি স্থানান্তর আমরা কীভাবে করতে পারবো, সেই জায়গাটাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার মধ্যে আছে, যেটা নিয়ে প্যারালাল এবং সম্পূরক প্রকল্পগুলো তৈরি হবে।’

আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তায় তিনি বলেন, ঢাকায় জনসংখ্যার যে চাপ, তাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে যাতায়াতের বড় অংশ আন্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। গণপরিবহনের এই সুবিধার ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, ভ্রমণের দূরত্ব ও সময় কমবে এবং মানুষের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্প ব্যয় ও ঋণ সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেরিতে প্রকল্প শুরু করার কারণে আগে যে ধরনের ঋণ সুবিধা বা কম খরচের সুবিধা পাওয়া যেত, তা এখন আর নেই। ভবিষ্যতে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে একটি টেকনিক্যাল কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যয় কিছুটা কমিয়েছে।

মেট্রোরেলের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে সেবার কোয়ালিটি এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মাটির নিচে কাজ করার সময় ওপরের বাড়িঘর বা স্থাপনায় কোনো ফাটল বা ক্ষতি হলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তিন বছরব্যাপী রিপেয়ারমেন্ট বা মেরামতের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পাতাল রেলপথের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ডে রেলপথ অত্যন্ত জরুরি। কারণ, যে পরিমাণ জনসংখ্যা এখন ঢাকায়, তাতে তাদের চলাচলের জন্য যদি বড় অংশ আমরা আন্ডারগ্রাউন্ডে না নিতে পারি, তাহলে আসলে আমাদের পক্ষে এই ঢাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একটা নাগরিক সুবিধা সংক্রান্ত শহরে পরিণত করা যাবে না। আর এটা মনে রাখা দরকার যে, এটা কিন্তু একটা গণপরিবহন।

‘তো সব বিবেচনায় যে, এই যে গণপরিবহনের যে সুবিধা, নাগরিকদের যে সুবিধা, এর ফলে যে ধরেন, যে পরিমাণ সাশ্রয় করবে দীর্ঘমেয়াদে…অর্থাৎ আপনি ডিজেল বলেন, তেলে বলেন, সেটারও একটা হিসাব বের করে দেখানো হয়েছে—একেকটা প্রকল্পে ৪১ হাজার টন তেল সেভ হবে। দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ৬০০ কিলোমিটারের মতো।’

প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, মানুষের যে কর্মঘণ্টা, তাদের যে পরিমাণ জার্নি করতে হয় শহরের মধ্যে, এই সবগুলো জিনিস কমে এসে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, মানুষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রে এটার ভূমিকা আছে। সেই ভূমিকার জায়গা থেকে এই বিষয়গুলো যে, আমরা হয়তো আগে প্রকল্প শুরু করলে যে ধরনের ঋণ সুবিধায় থাকতে পারতাম এবং কস্টের (খরচ) সুবিধায় থাকতে পারতাম, সেটা এই মুহূর্তে এসে বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে যে, আমরা সেই ঋণ সুবিধাতেও নাই, কস্টের সুবিধাতেও নাই। কিন্তু অবস্থাটা আবার এরকম দাঁড়িয়েছে যে, আমরা আরও যদি মানে সামনের দিকে যাই, তাহলে হচ্ছে আমাদের এই… এই ঋণ সুবিধাও বর্তমানে, আজ এই মুহূর্তে আজকের দিনে যেটা সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে সেটাও পাওয়া যাবে না এবং কস্ট আরও বাড়তে থাকবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD