নকল সিগারেট বাজারজাত করে সাড়ে ৭২ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ভার্গো টোব্যাকো। ২ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল কারখানায় অভিযান চালিয়ে এই ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ভার্গো টোব্যাকো প্রতিষ্ঠা করেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী সৈয়দা মাহবুব আক্তার। সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট ভাই। তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম নিজেও বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন এবং সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভ্যাট গোয়েন্দার দুটি টিম একযোগে ভার্গো টোব্যাকোর কারখানা এবং আরেকটি গুদামে অভিযান চালায়। এ সময় বাইরে থেকে গেট বন্ধ রেখে ভেতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। বারবার গেট খুলতে বলার পরও কেউ সাড়া দেয়নি। পরে দেওয়াল টপকে গোয়েন্দা দল ভেতরে ঢুকে দেখতে পায়, সিগারেট উৎপাদন হচ্ছে। গোয়েন্দা দল কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখে চেক করতে গিয়ে দেখে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পোড়ানো সিগারেটের দলিলাদি উপস্থাপন করতে বললে তারা তা দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে তারা নিশ্চিত করেন।
পরে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার বিবৃতিতে জানান, আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসাবে জব্দ করে গোয়েন্দা দল। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে কারখানা এবং পাশের গুদাম থেকে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় সেখানে কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেট পাওয়া যায়।
জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয় সংক্রান্ত গোপন মেসেজ এবং হিসাবের ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে ভ্যাট গোয়েন্দা দেখতে পায়, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনোরকম ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত পণ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়া ভ্যাট গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা জানান, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ এবং জাল স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে এনবিআর-এর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত রাখবে ভ্যাট গোয়েন্দা।
(যুগান্তর)