শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ন




বাটেক্সপোতে জাতীয় ঐকমত্যের ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জামায়াত সেক্রেটারির

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৮ pm
গোলাম পরওয়ার Mia Golam Parwar মিয়া গোলাম পরওয়ার Secretary General Jamaat-e-Islami জামায়াত ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল জামায়াত
file pic

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সোনালি দিনগুলোকে যেন আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে চলেছে ‘বাটেক্সপো’। দীর্ঘ ১২টি বছর পর এই মেলা ফিরে আসছে শুনে দেশের তৈরি পোশাক খাতজুড়ে এখন এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। এই প্রত্যাবর্তনকে পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার এই আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি বাটেক্সপোর পুরোনো এবং গৌরবময় অন্তর্ভুক্তিমূলক ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য বিজিএমইএ-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্মৃতির পাতা থেকে বাটেক্সপো

গল্পটা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। উদ্দেশ্য ছিল খুব স্পষ্ট—বিদেশি ক্রেতাদের মন জয় করা আর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির দুয়ার আরও বড় করে খোলা। দেখতে দেখতে সেই ছোট আয়োজনটিই পরিণত হয় দেশের প্রধান রপ্তানি শিল্পের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে।

সেই আনন্দের আবহ নিয়ে বিজিএমইএ ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাটেক্সপো ২০২৬’।

জাতীয় ঐকমত্যের সেই চিরচেনা ঐতিহ্য

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার এক সুন্দর অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেন। অতীতে বাটেক্সপোর উদ্বোধন ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিতেন। দেশের স্বার্থে এবং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিকে এগিয়ে নিতে রাজনীতি ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই কীভাবে এক হন—বিশ্বের কাছে সেই একতার দারুণ এক বার্তা পৌঁছাত এই মেলা থেকে।

তবে এবারের আয়োজনের উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী এবং সমাপনীতে মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর যে সিদ্ধান্ত বিজিএমইএ নিয়েছে, সে বিষয়ে কিছুটা উদ্বেগের কথা জানান তিনি। বিজিএমইএ-এর এমন সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব বিবেচনার বিষয় হলেও, তিনি মনে করেন রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে অতীতের সেই বৈচিত্র্যময় ও সবাইকে এক করার ঐতিহ্যটি ধরে রাখা গেলে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সৌহার্দ্যের বার্তাটি আরও জোরালোভাবে পৌঁছাত।

পোশাকের সাথে ভেসে যায় দেশের ভাবমূর্তি

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক—যে কোনো বার্তাই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর তার প্রভাব সরাসরি পড়ে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আর বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার ওপর।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একটি পোশাক যখন বাংলাদেশের কারখানা থেকে তৈরি হয়ে কোনো বিদেশি ক্রেতার হাতে পৌঁছায়, তখন কেবল সেই কাপড়টিই যায় না; তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতি আর লালিত মূল্যবোধ।”

তাই বাটেক্সপো কেবল ক্রেতা আর বিক্রেতার কেনাকাটার মেলা নয়, এটি গোটা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরার এক অপূর্ব সুযোগ। এই সুযোগে দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের কোনো ভুল বার্তা যেন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে না যায়, সে বিষয়ে জাতীয় শিল্প সংগঠনগুলোকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

কোনো বিতর্ক নয়, চাওয়া শুধুই দূরদর্শিতা

জামায়াতের এই নেতা স্পষ্ট করে জানান, কাউকে ছোট করা বা বিতর্কের জন্ম দেওয়া এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য নয়। লাখ লাখ পোশাক শ্রমিক, হাজারো উদ্যোক্তা আর স্থানীয় ব্যবসার ঘামে তৈরি এই পোশাক শিল্প কোনো নির্দিষ্ট দল বা সরকারের একাংশের সম্পদ নয়; এটা পুরো বাংলাদেশের সম্পদ।

তাই ভবিষ্যতে বিজিএমইএ যেন আরও বেশি পেশাদারিত্ব, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়—এমন আশাই প্রকাশ করেন তিনি। বাটেক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী হয়ে না থেকে হয়ে উঠুক বাংলাদেশের ঐক্য, স্থায়িত্ব এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তির এক বিশ্বস্ত প্রতীক।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD