বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন




ইসরাইলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কেউ, এখন কী হবে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১০ pm
Israel Benjamin Netanyahu ইসরায়েল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নেতানিয়াহু নেতানিয়াহু
file pic

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে স্পষ্ট আভাস মেলেনি। মঙ্গলবার ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট ৫১টি আসন পেতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও পেতে পারে ৫১টি আসন।

ফলে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষি চলতে পারে।

অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৮টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে। অন্য দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট গঠনে রাজি হলে সরকার গঠনে এসব দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী

আইজেনকোট বলেছেন, বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতি তুলে ধরেছে। বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহুর জোট ‘চরম পরাজয়ের’ মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, ‘এটি পুরোপুরি ধস। জনগণ তাদের বাড়ি চলে যেতে বলেছে।’

তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বিরোধীদের আগাম বিজয় উদ্‌যাপনকে ‘অকাল’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘ইসরাইলে লিকুদই সবচেয়ে বড় দল। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া সব সময়ই ভালো।’

নেতানিয়াহু গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক সংকটেও তিনি বারবার টিকে গেছেন।

ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন আলজাজিরাকে বলেন, প্রাথমিক জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের শক্তি স্পষ্টভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও এখনই তার বিজয় কিংবা রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘোষণা করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তার বিরোধীদের পক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হতে পারে। কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন

প্রেসিডেন্ট কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন তা এখনো তা নিশ্চিত নয়।

৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেবেন।

তবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটকে সম্ভাব্য দুই প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার গঠনের জন্য কত সময় পাওয়া যাবে

সরকার গঠনের জন্য মনোনীত প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। শুরুতে তাকে ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রেসিডেন্ট চাইলে তা আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন।

এ সময় দলগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা ও দর-কষাকষি চলবে। সরকার গঠনের সমর্থন আদায়ে দলগুলো নীতিগত ছাড় এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ দাবি করতে পারে।

কোনো প্রার্থী ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলেও ছোট দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে দুই নেতার মধ্যে মেয়াদ ভাগাভাগি করে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সমঝোতাও হতে পারে।

নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিতে হলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। কিছু সদস্য ভোটদানে বিরত থাকলে ৬১টির কম ভোট পেয়েও সরকার আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে।

আলোচনা ব্যর্থ হলে কী হবে

প্রথম মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে ২৮ দিনের জন্য দায়িত্ব দিতে পারেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় একজন প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারেন। ওই প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় পাবেন।

এরপরও সমঝোতা না হলে পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হবে এবং ইসরাইলিদের আবার নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। নতুন নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। তত দিন নেতানিয়াহুর সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এর আগে কি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরাইলে তিন দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দুজনের পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

তবে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক বছরের মধ্যেই সেই সরকার ভেঙে পড়ে। বিরোধীরা কি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়বে

বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—উভয়েই অভিন্ন মূল্যবোধের অভাবের কথা উল্লেখ করে এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।

ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসাফ রোনেল বলেছেন, জরিপে নেতানিয়াহুর ‘দুঃস্বপ্নের সরকারের’ অবসানের ইঙ্গিত মিললেও অন্য নেতারা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজেদের আপত্তি ও বৈষম্যমূলক অবস্থান কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

তার মতে, অন্য দলগুলো যদি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি না হয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইসরাইলে আবারো নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আলজাজিরার এক্সপ্লেইনার




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD