বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন




সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:১২ pm
ঋণ money laundering illegal process money generated criminal drug trafficking terrorist funding illegally concealing illicit drug trafficking corruption embezzlement gambling converting legitimate source crime jurisdictions আমদানি ওভার ইনভয়েসিং রপ্তানি আন্ডার-ইনভয়েসিং আমদানি-রপ্তানি অবৈধ জাল অর্থ পাচার জিএফআই মানি লন্ডারিং আর্থিক খাত গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউ হুন্ডি অর্থ পাচার সরকার ছিনতাই Per capita income মাথাপিছু আয় Reserves Reserve রিজার্ভ remittance রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় ডলার dollar Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা taka taka
file pic

সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। গত ১ অক্টোবর শেষে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ১২৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২৭ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশই নেওয়া হয়েছে ব্যাংক খাত থেকে।

প্রতি বছরই বড় অঙ্কের ঘাটতি রেখে বাজেট ঘোষণা করে সরকার। এ ঘাটতি মেটানো হয় মূলত দুটি উৎস থেকে—অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাত। বৈদেশিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না পাওয়া গেলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকব্যবস্থা, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি ও সঞ্চয়পত্র খাত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে ব্যাংক খাত। চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে নিট ২৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৩ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ৯৮ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার প্রতি বছর যে বাজেট ঘোষণা করছে, তাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছরই ঘাটতি বাজেট দিতে হচ্ছে। এ ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এতে দ্রুত বাড়ছে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ। ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সুদের বোঝাও। সরকারের বড় ব্যয়ের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ। এমনকি পুরোনো ঋণের সুদ পরিশোধ করতেও নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে।

দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে চলতি অর্থবছরে এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৩.৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে সুদ ব্যয় ধরা হয়েছিল এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার ৬৮.৫৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে এনবিআর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র খাতে ঋণ স্থিতি ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন কারণে সরকারের ব্যয়ের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে, অদূর ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। আমার দেশ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD