ভারতীয় বংশোদ্ভূত অজয় বাঙ্গাকে ফেব্রুয়ারিতেই বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বাঙ্গাই হচ্ছেন বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী কর্ণধার—বিষয়টি তখনই এক রকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। গত বুধবার বিশ্বব্যাংকের ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ অজয় বাঙ্গাকে সংস্থার নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২ জুন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে বিশ্বব্যাংক প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন মাস্টারকার্ডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ডেভিড ম্যালপাসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ভারতীয়-আমেরিকান অজয় বাঙ্গা।
বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ম্যালপাস মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার এক বছর আগেই পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। আগামী বছরের এপ্রিলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক পরিচালিত ঋণ প্রদান কর্মসূচিও পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন তিনি। সার্বিক পরিস্থিতিতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ডেভিড ম্যালপাস। তার কাছ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা আসার পরই বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদে অজয় বাঙ্গাকে মনোনীত করেন জো বাইডেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অজয় বাঙ্গা। তার পেশাজীবন শুরু হয়েছিল ভারতেই। মাস্টারকার্ডে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কাজ করেছেন নেসলে ও সিটি গ্রুপে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মাস্টারকার্ডে তিনি ছিলেন এক দশকেরও বেশি সময়।
ইকোনমিক টাইম জানায়, তাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর জো বাইডেন বলেছিলেন, ইতিহাসের এই কঠিন সময়ে বিশ্বব্যাংককে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তি অজয় বাঙ্গা। জলবায়ু পরিবর্তনসহ এ সময়ের নানা গুরুতর সমস্যা নিরসনে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। বিশ্বব্যাংকের অন্যতম অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। তাই ঐতিহ্যগতভাবেই সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে দেশটি। অজয় বাঙ্গা বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল উন্নয়নশীল দেশগুলো; কিন্তু বাঙ্গাই ছিলেন এ পদের একমাত্র মনোনীত প্রার্থী।
মহামারি, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অস্থিতিশীল ঋণের প্রভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই এ বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করতে হবে তাকে।