বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন




নির্বাচনে হাতপাখার খেলা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৮ মে, ২০২৩ ৬:৪১ pm
Islamist political party Shashontantra Andolan student wing Islami Chhatra Andolan Bangladesh Charmonai Pir Islami Andolan Bangladesh চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ Rezaul Karim President Bangladesh Mujahid Committee Syed Muhammad Rezaul Karim Charmonai Pir politician religious speaker Islami Andolan Bangladesh সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই রাজনীতিবিদ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরমোনাই পীর ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা হাত পাখা
file pic

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে জনমনে বাড়ছে কৌতূহল। বিশেষ করে মাঠের বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচন বর্জন এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব-অবিশ্বাসের কারণে এবারের সিটি নির্বাচনে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। অনেকেই বলছেন, এটি ফাইনালের আগে ফাইনাল। কেউ বলছেন, ভোটের রাজনীতিতে বিরোধীদের টানতে সরকারের কৌশল। আর বিএনপি বলছে, নির্বাচনকে ‘বৈধতা’ দিতেই ইসলামী আন্দোলন অংশগ্রহণ করছে। দলটির নেতাদের মতে, ইসলামী আন্দোলন কখনো বিরোধী দল, আবার কখনো সরকারি দলের সঙ্গে সখ্য গড়ছে।

জানা যায়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আন্দোলনরত বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এ কারণে ক্ষমতাসীন দলের মূল প্রতিপক্ষ হতে চাইছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিএনপি ছাড়া ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি দল ইতোমধ্যে সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে অন্তত তিন সিটিতে হাতপাখার বাতাসে ঝড় তুলতে চায় ইসলামী আন্দোলন।

জানা গেছে, বরিশাল, গাজীপুর ও সিলেট—এই তিন সিটির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় বিভেদ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে। যা নিরসন করে দলীয় প্রার্থীকে জেতানো দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে। বরিশালে দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থী নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানো যাচ্ছে না। গাজীপুরে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ না হওয়ায় সেখানেও দলের বিভক্তি ভোটের মাঠের পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে, সিলেট সিটিতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে—এমন ধারণা করা হলেও সেখানে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পক্ষে দলটির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। তবে সিলেটের সদ্য সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী প্রার্থী না হলে সেই সুযোগকেও কাজে লাগাতে চায় ইসলামী আন্দোলন। পাশাপাশি রাজশাহী ও সিলেট নিয়েও আশাবাদী তারা।

সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্যের কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসা ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের রেষারেষির কারণে দেশে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষও বিকল্প খুঁজছে। দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট হলে ইসলামী আন্দোলনই হবে বিকল্প ও নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। সেক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অন্ততপক্ষে তিনটি সিটি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী চরমোনাই পীরের দল। বিশেষ করে বরিশালে বিএনপি-জামায়াতের যে বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে, তার আনুকূল্য পেতে পারে ইসলামী আন্দোলন।

বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, যেখানে সবাই বিশ্বাস করে যে এই সরকারের অধীন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না; সেখানে এমনটা জেনেশুনেও ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা মানেই একে বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের দাবি, ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে অতীতের কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। তবুও সরকারের শেষ কৌশল দেখার জন্যই তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সর্বশেষ রংপুর সিটিতে গত বছর ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয়েছে তাতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণের কারণে নানামুখী জটিলতা তৈরি হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে হাতপাখার প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন—এমনটিই প্রত্যাশা শীর্ষ নেতাদের। সেইসঙ্গে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটে ভোট গ্রহণের দাবি জানায় সংগঠনটি।

পাঁচ সিটিকে ৩ ক্যাটাগরিতে ভাগ

আলাপকালে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা জানান, তারা পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছেন। পরিস্থিতি বুঝে সব সিটিতেই গুরুত্ব সহকারে নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ করবেন। ‘এ’ ক্যাটাগরি সিটির মধ্যে রয়েছে বরিশাল, গাজীপুর ও খুলনা। ‘বি’ ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে সিলেট। ‘সি’ ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন চরমোনাই পীরের ছোট ভাই ও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। গাজীপুর ও খুলনায়ও দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের প্রার্থী করা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশালে ধর্মীয় অনুভূতি এবং আবেগের কারণে তিনি ভোটারদের মন কাড়তে সক্রিয় থাকবেন। বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে তাদের অবস্থানও শক্তিশালী। সেজন্য বরিশালে জয়ের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী দলটি। অবশ্য ফয়জুল করিম এখনো গণসংযোগে মাঠে নামেননি।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মানুষ ধারণার বাইরে ইসলামী আন্দোলনের চমক দেখবে। এমনকি অধিকাংশ সিটি নির্বাচনে তাদের দলীয় মেয়র প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। তিনি বলেন, বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে তাদের আলাদা দৃষ্টি রয়েছে, কেননা চরমোনাই পীরের অবস্থান বরিশালে। বরিশালের মানুষ চরমোনাই পীরকে খুব কাছ থেকে দেখে আসছে, তারা আমাদের চেনে। সেখানে আমাদের সংগঠন খুব শক্তিশালী। তবে ভোট সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং বলেন, বরিশালের মানুষ স্থানীয় নির্বাচনে পছন্দমতো ভালো নেতা নির্বাচন করতে চায়। সেজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেইসঙ্গে সুষ্ঠু ভোট হলে গাজীপুর ও খুলনা সিটি নিয়ে তারা আরও বেশি আশাবাদী।

অন্যদিকে, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হওয়ায় সেখানে সুযোগ নিতে পারেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। গাজীপুর সিটির ভালো মানুষ সবাই হাতপাখায় ভোট দেবেন। তবে সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রচারের আগেই ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে এমপি-মন্ত্রীরা কাজ করছেন। প্রতীক বরাদ্দের আগেই আচরণবিধির তোয়াক্কা না করে প্রতিদিনই মিছিল হচ্ছে। ইসি শোকজ করলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ভোট সুষ্ঠু না হলে দেশ ও ইসির জন্য সমস্যা হয়ে যাবে।

খুলনা সিটিতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও মহানগরীর সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল হাতপাখা প্রতীকে মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হওয়ায় ঘরোয়াভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কুশল বিনিময় করছি। তিনি বলেন, এমনিতেই বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে মানুষের আস্থা নেই। তবে সুষ্ঠু ভোটের জন্য স্থানীয় প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে। নিরপেক্ষ ভোট হলে মানুষ হাতপাখাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন ইনশাআল্লাহ।

এ ছাড়া সিলেট সিটিতে হাতপাখার মেয়র প্রার্থী দলের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষ এবার ইসলামপন্থিদের সুযোগ দিতে চান। কেননা, তারা অতীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে দেখেছেন। সিলেট মহানগরে তাদের সাংগঠনিক অবস্থান ভালো। ৪২টি ওয়ার্ডে কমিটি আছে। আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। সুষ্ঠু ভোট হলে হাতপাখার জয় হবে। ইসি পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে নির্বাচন হবে কলঙ্কজনক।

এ ছাড়া রাজশাহী সিটিতে মহানগরীর সহসভাপতি হাফেজ মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সারা দেশে ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর কমিটি ৮৭টি। সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো হচ্ছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, ইসলামী আইনজীবী পরিষদ, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ ও ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ। এসব সংগঠনকে সিটি নির্বাচনের প্রচারণা ও গণসংযোগে একযোগে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা আছে ইসলামী আন্দোলনের।

বরিশালে শোডাউনের প্রস্তুতি

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম আজ সোমবার ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশালে আসবেন। নগরের প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপাড় এলাকায় অন্তত ২ হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে শোভাযাত্রা সহকারে বরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর সেখান থেকে নথুল্লাবাদ ও চৌমাথা হয়ে আমতলা দিয়ে শোভাযাত্রাটি বরিশাল শহরে প্রবেশের পর সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে। মূলত ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ঘিরে এবার যে চমক সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সবকিছু গুছিয়ে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে তারা নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামতে চান। {কালবেলা }




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD