শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন




ন্যূনতম কর ২ হাজার টাকা ধার্য অনৈতিক সিদ্ধান্ত: সিপিডি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২ জুন, ২০২৩ ১:১৪ pm
CPD logo CPD Centre for Policy Dialogue CPD সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডি
file pic

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আর্থিক কাঠামোকে ‘অলীক’ বলে আখ্যায়িত করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) বলেছে, এই বাজেট উচ্চাকাঙ্খী, যা বাস্তবায়নযোগ্য নয়। সংস্থাটি মনে করে, বাজেটের আয় ও ব্যয় কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। কাঠামোগত এ দুর্বলতার কারণে বাজেটের বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সিপিডি বলছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। সামনে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ, আইএমএফ-এর ঋণ, মূল্যস্ফীতিসহ বেশকিছু চ্যালেঞ্জ। প্রস্তাবিত বাজেটে এসব চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন ছিল সেগুলো নেয়া হয়নি। সিপিডি আরও বলছে, বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো প্রতিফলন নেই। বিভিন্ন চলক উচ্চাকাঙ্খী। নেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জন আকাঙ্খার প্রতিফলন। এছাড়া ধনীদের সারচার্জ (সম্পদ কর) দেয়ার ব্যবস্থা, আবার কর দেয়ার অযোগ্য মানুষের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেয়া গরিব শোষণ ও ধনী তোষণ নীতির বহিঃপ্রকাশ বলেও মনে করে সংস্থাটি।

শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৩-২৪, সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সংস্থার সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানসহ সিপিডির গবেষকরা।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর কথা আমরা বলেছিলাম। সীমারেখা তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ করা হয়েছে, যা ভালো দিক। তবে ৩৮টি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যে সেবাগ্রহীতার ট্যাক্স রিটার্ন সাবমিট করতে হবে এবং আয় যাই হোক, দুই হাজার টাকা কর দিতে হবে, সেটা আমাদের কাছে অবিবেচনা প্রসূত মনে হয়েছে। এ ধরনের কর নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বোঝা হয়ে যাবে। এই দুই হাজার টাকা ন্যূনতম কর তুলে দেওয়া উচিত বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি বৈদেশিক আয়ের দিকে তাকায় তাহলে দেখব রেমিট্যান্স নিম্নমুখী। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কিন্তু নিম্নমুখী। বৈদ্যুতিক এবং জ্বালানি খাতে ব্যাপক একটা ঘাটতি দেখা গেছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বাজেটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পালনের আভাস স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, আমরা যদি বৈদেশিক আয়ের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো রেমিট্যান্স নিম্নমুখী। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও নিম্নমুখী। বৈদ্যুতিক এবং জ্বালানি খাতে বড় একটা ঘাটতি দেখা গেছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত দুই অর্থবছরের উন্নয়নের যে সূচক দেখানো হয়েছে তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনও মিল নেই। নতুন অর্থবছর ২০২৩-২০২৪ এ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। গত অর্থবছরেও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল। পরে এটাকে নামিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে।

আমরা যদি সরকারি বিনিয়োগের হার দেখি সেটা ৬ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের জন্য ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির অংশ হিসেবে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ ধরা হয়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালে আমরা দেখেছি যেটা ধরা হয়েছিল, সেটা কম হয়েছে এখন পর্যন্ত, এবং সেটা ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এখান থেকে লাফ দিয়ে ২৭ শতাংশ কীভাবে হবে? সেটা আমাদের কাছে মনে হচ্ছে একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

ফাহমিদা খাতুন জানান, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামের লাগাম টেনে ধরার জন্য যে প্রস্তাবনা করা হয়েছে, যে সমাধান দেওয়া হয়েছে সেগুলো কিন্তু সম্ভব না। মূল্যস্ফীতির হার যে তারা ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলছেন, তা সম্ভব হবে না। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য যে আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেখানে আমদানি করা কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে কর রেয়াত দিলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত। কিন্তু তেমন কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তার মতে, করমুক্ত আয়সীমা আমরা বাড়ানোর কথা বলেছিলাম। এখানে করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ করা হয়েছে, সেটি খুব ভালো। কিন্তু তার পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, কেউ সরকারি সেবা নিতে গেলে রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং আয় যাই হোক দুই হাজার টাকা কর আরোপের বিষয়টি অবিবেচনাপ্রসূত মনে হয়। আমরা দাবি করছি এই দুই হাজার টাকা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, এছাড়া আমাদের অর্থনৈতিক সংস্কারের যে কথা ছিল সেগুলোর বিষয়ে বাজেটে তেমন কোনও পদক্ষেপ নেই। এই বাজেট এমন একটা সময় প্রণয়ন করা হয়েছে যখন আইএমএফ এর বিভিন্ন শর্ত আছে ঋণ দেওয়ার। বাজেট উপস্থাপনায় তিন বার আইএমএফ এর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শর্তের বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলা হয়নি। কিন্তু আমরা দেখেছি, বিভিন্ন যে লক্ষ্যমাত্রা আছে সেই শর্তগুলো পরিপালনের ক্ষেত্রে কিছুটা ইঙ্গিত রয়েছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যক্তি খাতে ঋণ প্রবাহ ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এই বছরের ঋণ প্রবাহ যেটা ধরা হয়েছে সেটা গত বছরের ধরা ঋণ প্রবাহের সঙ্গে মিলছে না। এছাড়া ব্যক্তি খাতের যে বিনিয়োগের হার ধরা হয়েছে এমন ঋণ প্রবাহ দিয়ে কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি কমে গিয়ে সেটা ৬ শতাংশ হবে। এই মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আমাদের কাছে উচ্চাকাঙ্ক্ষা মনে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে ‘উন্নয়নের দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ শিরোনামে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের বাজেটের জন্য ব্যয় ধরেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

ফাহমিদা খাতুন বাজেট বিশ্লেষণে বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থ বছর একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থ বছর। এই চ্যালেঞ্জের সময়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদে শেষ বাজেটটি উপস্থাপন করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছর থেকেই আমরা দেখছি যে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ক্রমান্বয়ে এবং ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই দুর্বলতার কারণ- একদিকে যেমন বৈশি^ক অন্যদিকে অভন্তরীণ কারণ রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে যে ২০২৬ সালে আমরা স্বল্পন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবো। একইসঙ্গে আমাদের সামনে রয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাইলস্টোন। যখন আমরা আইএমএফ-এর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি ৪.৭ মিলিয়ন ডলার। এসব কিছু বিবেচনায় এবারের বাজেটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই হিসাবে বাজেটে আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। এই কঠিন সময়ে কঠিন কিছু ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ ছিল, সেটি নেয়া হয়নি।

সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রায় ১৫টি চাপ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো- রাজস্ব আহরণ কমে যাচ্ছে এবং এই বছরে ঘাটতি হয়েছে। এছাড়া সরকারি ব্যয় সেটাও এক জায়গায় স্থবির হয়ে আছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কম হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাত থেকেও ঋণ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে। আর মানুষের জীবনে যেটা সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে সেটি হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আকাশচুম্বি হয়ে আছে। তার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের তারল্যের উপর চাপ পড়েছে। যদি বহিঃখাতের দিকে তাকাই, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী। রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি নিম্নে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হচ্ছে। এটার ক্ষেত্রে আমরা দেখছি যে আমদানি যতটুকু করার কথা ততটুকু করা যাচ্ছে না। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ এবং জ¦ালানি খাতে ব্যাপক ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। যার ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা দেখছি যে টাকার ও ডলারের বিনিময় হার অবনমন হচ্ছে। এই সমস্ত চাপেই কিন্তু সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আমরা যদি দেখি জিডিপি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেই ধরনের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে সেখানে আমরা গত অর্থ বছরে এবং তার আগের অর্থ বছরের সাথে এই অর্থ বছরের তুলনা করেছি। সেখানে অনেকগুলো সূচকের প্রবৃদ্ধি এবং প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, সেগুলোর অনুমিতিগুলো বাস্তবতার সাথে তেমন মিল নেই। নতুন অর্থবছর ২০২৩-২৪ এ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। গত অর্থবছরেও ৭.৫ শতাংশ ধরা হয়েছিল। পরে এটাকে নামিয়ে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে যে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ঘুরে দাঁড়িয়ে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশ হবে।

আমরা যদি সরকারি বিনিয়োগের হার দেখি সেটা ৬.২ শতাংশ ধরা হয়েছে। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির অংশ হিসেবে ২৭.৪ শতাংশ ২০২৪ সালের জন্য ধরা হয়েছে। কিন্তু আসলে ২০২৩ সালে আমরা দেখেছি যেটা ধরা হয়েছিল, সেটা কম হয়েছে এখন পর্যন্ত, এবং সেটা ২১.৮ শতাংশ। এখান থেকে কিভাবে লাফ দিয়ে ২৭ শতাংশ হবে? সেটা আমাদের কাছে মনে হচ্ছে উচ্চাকাঙ্খা। ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যক্তি খাতে ঋণ প্রবাহ ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। এই বছরের ঋণ প্রবাহ যেটা ধরা হয়েছে সেটা গত বছরের ধরা ঋণ প্রবাহের সঙ্গে মিলছে না। এছাড়া ব্যক্তি খাতের যে বিনিয়োগের হার ধরা হয়েছে সেটা এমন ঋণ প্রবাহ দিয়ে কিভাবে বাস্তবায়ন হবে সেটা কিন্তু বোধগম্য নয়।

নতুন অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট বলা হয়েছে ব্যাপকভাবে মূল্যস্ফীতি কমে গিয়ে সেটা ৬ শতাংশ হবে। এই মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আমাদের কাছে উচ্চাকাক্সক্ষা মনে হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় আমদানি প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যে পারফরম্যান্স ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেখা গেছে তার থেকে আরও বেশি হবে বলে নতুন অর্থ বছরের বাজেটে বলা হয়েছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ট্যাক্স রিটার্নের নামে ন্যূনতম কর ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা বৈষম্যমূলক। নৈতিকভাবে এটা ঠিক হয়নি। এটি তুলে দেয়া উচিত। তবে করের সীমারেখা তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ করাটাকে ভালো দিক বলে মনে করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, একটা গুরুত্বপূর্ণ খাত সামাজিক নিরাপত্তা। এখানে বর্তমান অর্থবছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানোর পরিমানটা ৭.৩৪ শতাংশ। কিন্ত এটা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের পেনশনের টাকাটা এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেটা সামাজিক নিরাপত্ত বেষ্টনির মধ্যে থাকার কথা না। এটা থাকার ফলে কিন্ত সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণটা অনেক বেশি দেখা যায়।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে আমরা অনেক পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকি। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সব পণ্যের দাম নিম্নমুখী। সুতরাং সম্পুর্ণভাবে বৈদেশিক উৎসের উপরে মূল্যস্ফীতির চাপটা সরিয়ে দেয়ার যুক্তিযুক্ত না।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ঘোষিত প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হলো মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ ঘোষণা না করা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের কাছে সাধারণ জনগণের যে প্রত্যাশা রয়েছে, যে আকাঙ্খা ছিল সেই আকাঙ্খা মেটাতে এই বাজেটটি ব্যর্থ হয়েছে।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সংস্কার সম্পৃক্ত বিভিন্ন সূচকে আমরা আইএমএফে’র বিভিন্ন শর্তের প্রতিফলন কমবেশি দেখতে পাই, যদিও এটি পর্যাপ্ত নয়। সরকার ধীরে ধীরে সে পথে হাঁটছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব সংস্কারে হাত দেয়া হয়নি। সম্ভবত নির্বাচনের পরে কৃষি ও জ্বালানি খাতে মূল্য সমন্বয় করবে। তিনি বলেন, সংস্কার সম্পৃক্ত বিভিন্ন সূচকে আমরা আইএমএফ’র বিভিন্ন শর্তের প্রতিফলন কম বেশি দেখতে পাই, যদিও এটি পর্যাপ্ত না।

সিপিডির বিশেষ ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগেও আমরা দেখেছি সংকটের মূল কারণগুলো অনুধাবন না করে বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। এ জন্য শেষ পর্যন্ত অনুমিতিগুলো সত্য হয় না। বাস্তবতাকে বিবেচনায় না নিয়ে আকাঙ্খার পরিপ্রেক্ষিতে বাজেট করলে এমন অবস্থা হয়। মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দেশের অর্থনীতি ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ বৈশ্বিক সংকট তৈরি হওয়ার পরে সেটাকে বিবেচনায় না নিয়ে গত বছর বাজেট করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটেও বর্তমান বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। এই উচ্চ আকাক্সক্ষার বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে রাজস্ব আয় চলতি বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়াতে হবে। আর লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আদায় না হলে তখন ঘাটতি মেটাতে হয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হবে বা এডিপি কাটছাঁট করতে হবে। তা না হলে বৈদেশিক ঋণ নিতে হবে। ফলে অনুমিতির দুর্বলতার কারণে পরে অর্থনীতি প্রতিটি জায়গায় হোঁচট খাবে।

গত বৃহস্পতিবার ১লা জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ আর মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD