২০২১ সালের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু কিছুটা বেড়েছে। ২০২২ সালের চূড়ান্ত হিসাবে দেশের মানুষের গড় আয়ু হয় ৭২.৪ বছর। যা ২০২১ সালে ছিল ৭২.৩ বছর।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ভবনে বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স ২০২২ এর প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠিানে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম ও পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএস ডিজি (চলতি দায়িত্ব) পরিমল চন্দ্র বসু। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন।
বিবিএস জানায়, ২০২২ সালে দেশের পুরুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০.৮ বছর। যা ২০২১ সালে ছিল ৭০.৬ বছর। এছাড়া, মহিলাদের গড় আয়ুও কিছুটা বেড়েছে। ২০২১ সালে মহিলাদের গড় আয়ু ছিল ৭৪.১ বছর। যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪.২ বছর।
দেশে জন্মহার আবারও বাড়ছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা পদক্ষেপের মধ্যেও এই হার বেড়ে যাওয়ার জন্য কোভিড মহামারীকালে সবার ঘরবন্দি থাকাকে কারণ মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।
এই স্থুল জন্মহার ২০২১ সালের তুলনায় কিছুটা বেশি। ওই বছর দেশে স্থুল জন্মহার ছিল ১৮ দশমিক ৮ জন।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সাল থেকে টানা চার বছর দেশে স্থুল জন্মহার বৃদ্ধি ঘটেছে।
গত বছরের জন্মহার ছিল প্রতি হাজারে ১৮ দশমিক ৮ জন। ২০২০ ও ২০১৯ সালে জন্মহার ছিল যথাক্রমে ১৮ দশমিক ১ জন এবং ২০১৮ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৩ জন।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে শামসুল আলম বলেন, “গত বছর কেন জন্মহার বেড়েছে, এই বিষয়ে আর হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। কোনো গবেষণাও নেই।
“তবে আমার অনুমান, কোভিড মহামারীর সময় দেশের সাধারণ মানুষ বেশিরভাগ সময় ঘরে কাটিয়েছে। একই সময়ে বিদেশ থেকে বেশিহারে প্রবাসীরা দেশে এসেছে। এই দুই কারণে জন্মহার বাড়তে পারে। এই দুটি জন্মহার বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ হতে পারে বলে আমার মনে হয়েছে।”
তবে এটা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।
<div class=”paragraphs”><p>২০২০ সালে লকডাউনের সময় এমন সুনসান ছিল ব্যস্ত সড়কগুলো</p></div>
২০২০ সালে লকডাউনের সময় এমন সুনসান ছিল ব্যস্ত সড়কগুলো |ফাইল ছবি
কোভিড রোগের বিস্তার ঠেকাতে ২০২০ সালের মার্চে লকডাউনে গিয়েছিল গোটা দেশ। তখন ঘর থেকে বের হতেও ছিল মানা। কয়েক মাস ধরে টানা সেই অবস্থা চলে। পরে লকাডাউন শিথিল হলেও ২০২১ সাল জুড়েও মানুষকে ঘর থেকে বের না হতে উৎসাহিত করা হয়েছিল।
বিবিএসের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, গতবছর সারা দেশে ২ হাজার ১২টি ইউনিট, ৩ লাখ ৬ হাজার ৯৫৪টি খানা এবং ১৩ লাখ ২ হাজার ৭৮৮ জনের উপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
২০২২ সালে পরিচালিত জনশুমারি ও গৃহগণনার ভিত্তিতে দেশের প্রাক্কলিত জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৮ লাখ। এরমধ্যে নারী ৮ কোটি ৬১ লাখ এবং পুরুষ ৮ কোটি ৪৫ লাখ।
‘বাংলাদেশ স্যাম্পল স্ট্যাটিসটিকস ২০২২’ জরিপে বলা হয়, ২০২২ সালে জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার (যত জন জন্মেছে তা থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাদ দিয়ে) প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৩৫ জন। তার আগের বছর ২০২১ সালে এই হার ছিল ১ দশমিক ৩০ জন।
গত বছর প্রতি হাজার প্রজননক্ষম নারীর বিপরীতে প্রজনন হার ছিল ৬৮ জন। ২০২১ সালে এই হার ছিল ৬৬ জন।
আলমগীর হোসেন বলেন, গত বছর স্থুল মৃত্যুহার ছিল (প্রতি হাজারে) ৫ দশমিক ৮ জন।
এরমধ্যে প্রতি হাজার জীবিত শিশু জন্মের বিপরীতে শিশু মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। এই হার ২০২১ সালে ছিল ২২ জন এবং ২০২০ ও ১৯ সালে ছিল ২১ জন।
এর মধ্যে এক মাসের কম বয়সী শিশু মারা গেছে প্রতি হাজারে ১৭ জন। আবার ১ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে ৮ জন। ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে প্রতি হাজার ১ দশমিক ৮ জনের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগামী অর্থবছর থেকে আর প্রকল্প নেওয়া হবে না বলে জানান। তিনি বলেন, এটা সরকারের বাৎসরিক স্বাভাবিক কাজ হিসেবে রাজস্ব বাজেটের আওতায় বরাদ্দ দিয়ে এই জরিপের কাজ পরিচালনা করা হবে।
মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের লোক বাড়েনি
গত দুইবছরে দেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের লোক বাড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২২ সালে দেশে মুসলমানদের সংখ্যা ৮৯ শতাংশ। যা ২০২১ সালেও ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০২০, ২০১৯, ২০১৮ সালেও মুসলমানদের হার ছিল ৮৮.৪ শতাংশ। এছাড়া ২০২২ এবং ২০২১ সালে অন্যান্য ধর্মের লোকের হার দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশ। যা ২০২০, ২০১৯, ২০১৮ সালে এ হার ছিল ১১.৬ শতাংশ।