শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন




টাকার মান কমায় চাপ বাড়ছে অর্থনীতিতে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৪ জুন, ২০২৩ ৫:৪৪ pm
শেয়ার বাজার শেয়ারবাজার দাম বাড়বে কমবে Inflation মূল্যস্ফীতি dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange শেয়ারবাজার dse ডিএসই Share point সূচক অর্থনীতি economic দরপতন dse ডিএসই শেয়ারবাজার দর পতন পুঁজিবাজার CSE BSEC share market DSE CSE BSEC sharemarket index discrimination সূচক market down
file pic

বিনিময় হারের ওঠানামা বিভিন্নভাবে আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিনিময় হারে হঠাৎ করে অবচিতি ঘটলে সরকারের ঋণ বাড়তে পারে। যদিও বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছর ধরে বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু টাকার সাম্প্রতিক অবচিতি বিভিন্নভাবে আর্থিক ভারসাম্য এবং ঋণের সামগ্রিক পরিমাণকে প্রভাবিত করছে। এই অবচিতি সরকারের রাজস্ব আদায় এবং ব্যয় উভয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। রাজস্বের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আমদানি শুল্কের সঙ্গে জড়িত। ডলারের বিপরীতে টাকার দ্রুত অবচিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশকে খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদিতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৪০ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা করতে হয়েছিল। পাশাপাশি টাকার অবচিতির ফলে সরকারি প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

সামগ্রিকভাবে এটি সরকারের আর্থিক বোঝা বাড়াতে পারে। সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে মধ্য মেয়াদ বলতে আগামী তিন (২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬) অর্থবছরের কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারের বাজার মূল্য ধরে বাজেট দেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু ডলারের মূল্য ওঠানামা করায় অর্থমন্ত্রীর হিসাব হেরফের হয়ে যায়। এতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। তারা আরও বলেন, সরকার ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করেছে। কিন্তু এতে খুব একটা কাজ হয়নি, ফল উল্টো হয়েছে। এজন্য ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ তাদের।

এদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কবে থামবে তা কেউ জানে না। এই যুদ্ধের প্রভাবে বেড়ে যাওয়া ডলারের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বরং সংকট আরও বেড়েছে। আমদানি খাতকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধির জোর প্রচেষ্টাতেও ডলারের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। ফলশ্রুতিতে কয়েক মাসের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে প্রতি ডলারের দাম ৮৮ টাকা থেকে বেড়ে ১২৫ টাকায় উঠেছিল।

জানা গেছে, ঋণপত্র খোলায় কড়াকড়ি আরোপ করার পর এখন প্রতি মাসে যে পরিমাণ রপ্তানি ও প্রবাসী আয় আসছে, তার চেয়ে আমদানি খরচ কম। তারপরও বিদেশি সেবা ও পরিবহন খরচ এবং বিদেশ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে যে খরচ হচ্ছে, তাতে প্রতি মাসে ডলারের আয়-ব্যয়ে বড় অঙ্কের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আবার সময়মতো রপ্তানি আয় দেশে আসছে না, এতেও ডলারের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

এদিকে রপ্তানি আয় সময়মতো না আসায় রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে পোশাক খাতের অনেক উদ্যোক্তাকে ডলার দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ইডিএফের ৭০০ কোটি ডলার বা ৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নেমে এসেছে ৪৪৯ কোটি ডলার বা ৪ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে। ফলে পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র খোলার সুযোগ সীমিত হয়ে এসেছে। আর অন্য খাতের উদ্যোক্তাদের ১১৩ টাকা পর্যন্ত দামে ডলার কিনে পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে থাকলে ঋণ পরিশোধে সরকারের চাপ বাড়বে। এতে বাড়বে ভর্তুকির পেছনে ব্যয় ও প্রকল্পের ব্যয়। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি হতে পারে। এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা সামগ্রিক আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সরকারের কার্যকারিতা সীমিত করতে পারে।

সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের জুন শেষে দেশে ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৮১ দশমিক ৮৭ টাকা। ২০২১ সালের জুন শেষে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা। এ সময়ে টাকার অবমূল্যায়ন হয় মাত্র ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বিপরীতে গত এক বছরে টাকার মান কমেছে ২৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ডলারের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৮ টাকা। ডলারের দাম বাড়ায় ইতোমধ্যে সরকারের আর্থিক বোঝা বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সরকারের প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে নীতি বিবৃতিতে বলা হয়, অনেক সরকারি প্রকল্প, বিশেষ করে বড় (মেগা) প্রকল্প আমদানি পণ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এভাবে টাকার মান কমলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করতে পারে।

একই কারণে সরকারের ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়বে। অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে সরকারি ও সরকারি নিশ্চয়তাযুক্ত ঋণের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। পরের দুই অর্থবছরে এই ঋণ বেড়ে দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩৬ হাজার ৬০০ ও ৩৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা। কিন্তু ডলারের বিপরীতে টাকার মান ১০ শতাংশ কমলে আগামী অর্থবছর শেষে সরকারি ও সরকারি নিশ্চয়তাযুক্ত ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ হাজার ২০০ কোটি ডলার। ফলে সামগ্রিকভাবে টাকার মান কমে যাওয়ায় মধ্য মেয়াদে আর্থিক বোঝা বাড়তে পারে।

বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ প্রতিবছর বাড়ছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ১৫০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে। চলতি বছর সেটি বেড়ে ২১০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে। আগামী দুই বছর যথাক্রমে ২৪০ ও ২৬০ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে হবে। গত ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে বিদেশি ঋণের ৫০ শতাংশই মার্কিন ডলারে ছিল। এ ছাড়া ২১ শতাংশ বিদেশি ঋণ জাপানি ইয়েনে, ১৫ শতাংশ ইউরোতে ও ৩ শতাংশ ব্রিটিশ পাউন্ডে ছিল। এমন তথ্য উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত ও তারল্য সংকট এড়াতে দক্ষ ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থাপনা জরুরি।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। তাহলে প্রবাসী আয় আসা ও রপ্তানি আয় আসা বাড়বে। ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করলে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। এ ছাড়া পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতে পাইপলাইনে থাকা সহায়তা ছাড় করাতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD