দেশে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে; তাতে জুলাইয়ের প্রথম তিন দিনেই ৯ জনের মৃত্যু হল মশাবাহিত এ রোগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৩৬ জন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭৪ জন ঢাকায় এবং ২৬২ জন ঢাকার বাইরের।
নতুন ভর্তি রোগীদের নিয়ে এ বছর সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ হাজার ১৯৩ জনে। একদিনে মৃত চারজনকে নিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন ৫৬ জন।
এবার বর্ষা শুরুর আগে থেকেই এইডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। আগের দিন রোববার দেশে ৫০৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, যা এ বছরের সর্বোচ্চ।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১,৫৩১ জন রোগী। এদের মধ্যে ঢাকায় ১,০২২ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০৯ জন।
মাসের হিসাবে জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন এবং মে মাসে ১০৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদের মধ্যে জানুয়ারিতে ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে দুজন, মে মাসে দুজন এবং জুন মাসে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বছর এইডিস মশা শনাক্তে চালানো জরিপে ঢাকায় মশার যে উপস্থিতি দেখা গেছে, তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় সামনে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন তারা।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ বছর যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে মারা গেছেন।
এইডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছর ৬২ হাজার ৩৮২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে রেকর্ড ২৮১ জনের মৃত্যু হয়।
এর আগে ২০১৯ সালে দেশের ৬৪ জেলায় এক লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। সরকারি হিসাবে সে বছর মৃত্যু হয়েছিল ১৬৪ জনের।