সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদল রোববার বাংলাদেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে তারা সুশীলসমাজের কয়েকজনের কাছ থেকে মতামত নিয়েছেন। নির্বাচনের পরিবেশ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা নানা ধরনের মতামত দিয়েছেন।
ইইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশের পরিস্থিতি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক কিনা তা তারা জানতে চেয়েছেন। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমি কোনো প্রস্তাব দেইনি। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছি-নির্বাচনের প্রক্রিয়া সঠিক হতে হবে। বিকল্প বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা যেন মানুষের থাকে, পুরো প্রক্রিয়াটা যেন স্বচ্ছ হয়। কোনো রকম কারসাজি যেন না হয়। এসব বলেছি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দল বৈঠক করে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ড. মাহফুজ কবির বলেন, নির্বাচনি পরিবেশ সম্পর্কে তারা জানতে চেয়েছেন। বলেছি, এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত। নির্বাচনের আগে আগে ইইউর একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠানো উচিত।
ড. মাহফুজ কবির আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর বিষয়েও তারা জানতে চান। বলেছি-পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা একটি ছোট দল পাঠাতে পারে। ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খান বলেন, মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ ছাড়া ইইউর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বৈঠক করেন। বৈঠক নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ইইউ নির্বাচনি অনুসন্ধান মিশনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ মূল্যায়ন করতে ১৬ দিনের সফরে ৮ জুলাই ঢাকায় আসেন। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত তারা থাকবেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন-দিমিত্র ইওয়ানু, আলভেস ক্রিটিনা ডস রামোস, মিলার ইয়ান জেমস, শ্যামেন ক্রিস্টোফার ও ম্যারি হেলেন এন্ডারলিন প্রমুখ।