বর্তমানে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশেই ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউরোপে যেতে আমেরিকাসহ ৬০টি দেশের জনগণকে আগেই অনুমতি নিতে হবে। তারা সেখানে আর ভিসা ছাড়া ঢোকার অনুমতি পাবেন না। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, এমন দেশগুলোর জন্য ইউরোপের দেশগুলোয় ঘুরতে যাওয়ার বিষয়ে ২০২৪ সাল থেকেই ‘ইউরোপিয়ান ট্রাভেল ইনফরমেশন অ্যান্ড অথরাইজেশন’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। একে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে ‘ইটিআইএস’।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভ্রমণবিষয়ক অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্যে জানা যায়, এখন ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে এমন ৬০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের ২০২৪ সাল থেকে ইউরোপ ভ্রমণের আগে ইউরোপীয় ভ্রমণ তথ্য ও অনুমোদন ব্যবস্থায় (ইটিআইএএস) অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। এই আবেদনের জন্য খরচ হবে প্রায় আট মার্কিন ডলার।
সন্ত্রাসবাদের ভয় এবং সীমান্ত সুরক্ষার বাড়তি চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভ্রমণকারীদের রেজিস্ট্রেশনে অন্তুর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ইইউ যে কোনো বিপদ বা হুমকিকে আগে থেকেই চিহ্নিত করতে পারবে, এ প্রত্যাশা থেকেই এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ইটিআইএস কোনো ভিসা নয়। ইউরোপিয়ান ভিসা নেই-এমন পর্যটকদের জন্য এটি একটি স্বীকৃতিপত্র। অনলাইন থেকেই ‘ইটিআইএএস ডটকম’ ওয়েবসাইট থেকে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই এর আবেদন করা যাবে। এজন্য প্রয়োজন হবে অন্তত ৩ মাস মেয়াদ আছে এমন একটি পাসপোর্ট, ই-মেইল অ্যাড্রেস, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য। ১৮ থেকে ৭০ বছরের যে কেউ এর আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
আবেদনপত্রের জন্য আগ্রহী ভ্রমণকারীকে নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, জেন্ডার, পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ ও মেয়াদ, ঠিকানা প্রভৃতি ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক কিছু প্রশ্নও করা হবে। তাৎক্ষণিকভাবেই এই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় এতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইউক্রেনের মতো দেশগুলোও এ তালিকায় রয়েছে।