রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন




দিনভর সংঘর্ষে যা ঘটলো

দিনভর সংঘর্ষে যা ঘটলো: ৯০ নেতাকর্মী আটক, ২০ পুলিশ আহত

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩ ৬:৪৯ pm
highway hig hway Dhaka Metropolitan Police dmp ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি রোড accident rash road যানজট রাস্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি dhaka তল্লাশিচৌকি ঢাকা বিএনপির গাবতলী ঢাকামুখী বাস যানবাহন তল্লাশি পুলিশ ঢাকা প্রবেশমুখ নয়াপল্টন রোড accident rash road যানজট রাস্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি police vigilant পুলিশ অভিযান মোতায়েন bnp বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিএনপি গণসমাবেশ Bangladesh Nationalist Party BNP Mirza Fakhrul Islam Alamgir বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
file pic

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশে যুগ্ম কমিশনারসহ ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ৯০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ জুলাই) বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন।

তিনি বলেন, আজকের কর্মসূচির জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর কোনো আবেদন করেনি৷ ফলে ডিএমপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যম ও বিএনপিকে জানানো হয় আজকের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি৷ অনুমতি না দেওয়ায় আজকের সমাবেশটি ছিল বেআইনি। যখন বিএনপি ঢাকা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে গাড়িতে আগুন, গাড়ির গতিরোধ, ককটেল নিক্ষেপ ও পুলিশের ওপর অতর্কিতভাবে তার আক্রমণ চালায়।

এ আক্রমণে ডিএমপির ট্রাফিক দক্ষিণের যুগ্ম কমিশনার মেহেদীসহ প্রায় ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর আক্রমণ ঠেকাতে ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ থেকে নিবারণের জন্য তাদের ওপর রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়৷ তারা পুলিশের ৮-১০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে, প্রায় ২০টির মতো গণপরিবহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ওপর বল প্রয়োগ করা হয়৷

ডিসি ফারুক হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত গ্রেফতার অভিযান ও থানা পুলিশের অভিযানে ৯০ জনকে আটক করা হয়েছে। যারা এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা হবে।

মাতুয়াইলে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

রাজধানীর মাতুয়াইলে দুটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। শনিবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম বলেন, দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে মাতুয়াইলে স্বদেশ পরিবহন কোম্পানির একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের খবর আমরা পেয়েছি। খবর পেয়ে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। কারা অগ্নিসংযোগ করেছে বা ঘটনায় কোনো হতাহত আছে কি না, এ তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রথম বাসের পাশেই তিশা কোচ নামে দ্বিতীয় আরেকটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে যতটুকু শুনেছি যাত্রীরা নেমে গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাতুয়াইল সিএনজি স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তিশা কোচের বাসটিতে চারজন লোক এসে আগুন লাগিয়ে দেয়। তার মধ্যে দুইজন একটি মোটরসাইকেল ছিলো। আর দুইজন হেঁটে এসে আগুন লাগিয়ে দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হয়ে পালিয়ে যায়। মোটরসাইকেলে আসা লোকজন যাত্রাবাড়ীর দিকে চলে যায়। তবে মোটরসাইকেলে আসা দুইজনের মাথায় হেলমেট ছিল এবং গাড়ির কোনো নাম্বার প্লেট ছিল না।

গাড়িটি সিএনজি স্টেশনের থেকে গ্যাস নিয়ে বের হওয়ার সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন দেওয়া হয়। তখন গাড়িতে কোনো যাত্রী ছিল না।

এর আগে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মাতুয়াইলে পুলিশ ও বিএনপিকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়েছে: গয়েশ্বর

অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে তার অফিসে পৌঁছে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

শনিবার (২৯ জুলাই) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাকে নয়াপল্টনের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সংঘর্ষের সময় আমার মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। পরে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়েও নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে অফিসে দিয়ে গেল।

শারীরিক অবস্থা এখন কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইনজুরি হওয়ার পর সুস্থ হতে সময় লাগবে। এখন স্যালাইন দিতে হবে।

এর আগে রাজধানীর নয়াবাজার (বাবুবাজার ব্রিজের প্রবেশ মুখ) মোড়ে বিএনপি অবস্থান নেওয়ার কথা থাকলেও এর বদলে ধোলাইখাল মোড়ে অবস্থান নেয় দলটি। সেখানে বেলা ১১টায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি কেন্দ্র করে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। জবাবে ইট-পাটকেল ছোড়েন অবস্থানকারীরা।

সেখান থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আটক করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি জাফর হোসেন।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে ধোলাইখাল মোড়ের একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন তিনি। সেখান থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

গোয়েন্দা তথ্য ছিল বিএনপি অরাজকতা করবে: ডিবিপ্রধান

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, বিএনপি তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে অরাজকতা করবে বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই আঁচ করছিলাম, তারা কোনো এক সময় অরাজকতা সৃষ্টি করবে। তারা প্রতিবারই প্রোগ্রাম করার আগে অনুমতি গ্রহণ করেছে এবং আগের প্রোগ্রামগুলোতে অনুমতি তাদের দেওয়াও হয়েছে।

শনিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের গেটের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ডিবিপ্রধান বলেন, ঢাকার চারপাশ বন্ধ করে বিএনপি যে সমাবেশ করে বসে পরার কর্মসূচি নিয়েছিল। ঢাকার চারপাশের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য ডিএমপি কমিশনার কর্মসূচির অনুমতি নেই বলে মিডিয়ার মাধ্যমে জানিয়েছেন। তারা কোনো অনুমতি না পেয়েও আমাদের পুলিশের গায়ে আঘাত করেছে, গাড়ি ভাঙচুর করেছে, গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে এমন একটা গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এ কারণে আমরাও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে রেখেছিলাম। এরমধ্যেও তারা ইট-পাটকেল ছুড়ে পুলিশকে আহত করেছে। অনেক সিনিয়র পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে লাঠিচার্জের বিষয়ে ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে রক্ষা করার জন্য ডিবিতে নিয়ে আসি। তিনি নেতাকর্মীদের হামলার মধ্যে পড়েছিলেন। নেতাকর্মীরা ঢিল মারছিল। আমরা তাকে সেইভ করে নিয়ে আসার পর এখন আবার আমাদের গাড়িতে করেই তার বাসায় পৌঁছে দেই।

ডিবিপ্রধান আরও বলেন, আজকে ন্যাক্কারজনক কাজ ঘটিয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হবে। যারা এই ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।

সকালে মারধরের শিকার গয়েশ্বর, দুপুরে আপ্যায়ন করালো ডিবি

ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে বিএনপি ও তাদের যুগপৎ আন্দোলনের দলগুলোর ‘অবস্থান কর্মসূচিতে’ যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে মারধরের শিকার হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পরে সেখান থেকে গাড়িতে করে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। তবে বিকাল হতে না হতেই বিএনপির এই নেতাকে দলীয় কার্যালয়ে নিজেদের গাড়িতে করে নামিয়ে দিয়ে যান ডিবির কর্মকর্তারা।

এর আগে ডিবি কার্যালয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদের সঙ্গে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিতেও দেখা যায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। ডিবি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যাহ্নভোজে ছিল নানা পদের খাবার। ছিল বেশ কিছু ফলের আইটেমও। খাবার আনা হয়েছে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল থেকে।

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা বিএনপি নেতা গয়েশ্বরকে সেভ করার জন্য নিয়ে এসেছিলাম। এখন পুলিশের একটি গাড়িতে করে তাকে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’

মধ্যাহ্নভোজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভিআইপি রাজনীতিবিদদের যে মর্যাদা, সেটা তাদের দিয়ে থাকি। গয়েশ্বর রায়কেও ধোলাইখাল থেকে সেফ করে ডিবি কার্যালয়ে এনেছি। তাকে দুপুরে আপ্যায়ন করানো হয়েছে। তারপর পুলিশের গাড়ি দিয়ে তাকে কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

‘আপ্যায়নের এই ছবিই প্রমাণ করে ডিবিতে কখনও নির্যাতন করা হয় না’, বলেও দাবি করেন হারুন অর রশিদ।

এদিকে কার্যালয়ে পৌঁছে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমার মাথা ফেটে গেছে, আমি রক্তাক্ত হয়ে পড়েছি। পরে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত বেধড়ক পিটিয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে রাজারবাগের পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়েও নেওয়া হয়েছিল। এখন অফিসে নামিয়ে দিয়ে গেলো।’

শারীরিক অবস্থা এখন কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইনজুরি হওয়ার পর সুস্থ হতে সময় লাগবে। এখন স্যালাইন দিতে হবে।’

এর আগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে অবস্থান কর্মসূচির সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আহত হন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার (২৯ জুলাই) সকালে মাতুয়াইল হাসপাতালের সামনে বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী রাস্তা অবরোধ করে বসে পড়েন। দুপুর পৗনে ১২টার দিকে পুলিশ তাদের উঠিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী রাস্তা অবরোধ করে বসে পড়লে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও কয়েকশ’ সদস্য এসে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তারা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর টিয়ারশেল ছুড়তে থাকেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর আহত হন। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এই সময় বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে।

নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার জন্য এই নাটক: আমান

দুপুরে রাজধানীর গাবতলীতে দলীয় কর্মসূচি পালনকালে সেখান থেকে বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর জানা যায়, তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাকে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি প্রতিনিধি দল। তারা আমানকে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো দুপুরের খাবার, বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি ফল ও জুসের প্যাকেট তুলে দেন।

এরপর শনিবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে একটি গাড়িতে আমানউল্লাহ আমান ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, খাবার পাঠানো এসব ‘নাটক’।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকার সময় ওষুধ দিয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। এমন সময় কে বা কারা দেখতে এসেছিল এবং ফলের ঝুড়ি দিয়ে গেছে তা বুঝতে পারিনি।

চলমান আন্দোলনে তার ভূমিকার পিঠে ছুরি মারার জন্য এবং নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার জন্য এই নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আমানউল্লাহ আমান বলেন, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এই আন্দোলনে আছি। এতে মৃত্যু হলেও পিছপা হবো না।

এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান।

এর আগে কর্মসূচি পালনকালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পুলিশের ত্রিমুখী ধস্তাধস্তিতে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আমান। সেখান থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাকে পুলিশের ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দেখতে যান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

ধোলাইখালে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৬ নেতাকর্মী ঢামেকে

ধোলাইখাল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের ছয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার (২৯ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাদের ঢামেকে নিয়ে আসা হয়েছে।

আহতরা হলেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন রুবেল (৩০), কলাবাগান থানা ছাত্রদলের সভাপতি জাকিরুল আলম (৩০), কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নাট্য বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক (৩০), কবি নজরুল ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান আবির (২৯), পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ (২৮) এবং যুবদল কর্মী ওবায়দুল (৪০)।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আমরা ধোলাইখালে ছাত্রদল-যুবদল-বিএনপি-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলাম। এ সময় পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। আমার মাথা ফেটে গেছে।

কলাবাগান ছাত্রদলের সভাপতি জাকিরুল আলম বলেন, ধোলাইখালে আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ এলোপাতাড়ি মারধর এবং রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়।

কবি নজরুল কলেজের ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান আবির বলেন, ধোলাইখালে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে আমার শরীরে রাবার বুলেট লাগে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া মিয়া বলেন, ধোলাইখাল থেকে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।

বিএনপি নেতা আমানকে ফল ও দুপুরের খাবার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তার সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু) জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানকে দেখতে গিয়েছেন। এ সময় বিএনপি নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো দুপুরের খাবার, বিভিন্ন প্রকার ফল ও জুস তুলে দেন তিনি।

গাজী হাফিজুর রহমান আমানউল্লাহ আমানকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার জন্য এসব খাবার, ফল ও জুস পাঠিয়েছেন। তিনি আপনার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর জানতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আপনার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।’

লিকু বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য দেশের ভেতরে অন্য যেকোনও হাসপাতালে জনাব আমানউল্লাহ আমান যেতে চাইলে তারও সুব্যবস্থা করে দেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জনাব আমানউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর উপহার গ্রহণ করে মানবতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে শুক্রবার বিএনপি রাজধানীতে মহাসমাবেশ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও এদিন শান্তি সমাবেশ ডাকে। বিএনপির সমাবেশ থেকে শনিবার নতুন কর্মসূচির ঘোষণা এলে আওয়ামী লীগও তাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের এমন অবস্থানে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে মহানগর পুলিশ। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা তা অমান্য করেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে থাকে।

শনিবার (২৯ জুলাই) সকালে সাড়ে ১১টায় আমানসহ আরও কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী গাবতলীর এসএ খালেক বাসস্ট্যান্ডের সামনে এলে পুলিশ তাদের সরে যেতে বলে। এ সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা পাশ থেকে স্লোগান দিচ্ছিল। এমন অবস্থায় আমানউল্লাহ আমান অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD